দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লালপুর এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নিয়ে নাটোর-১ আসন ধরে রাখতে সর্বোচ্চ তৎপরতা নিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। তবে গোল বেধেছে পারিবারিক দ্বন্দ্বে। বর্তমানে সংসদ সদস্যতো আছেনই। এছাড়া আগে থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ পরিবার থেকে শক্ত প্রার্থী আছেন দু'জন।
এদিকে, বিএনপি দুর্গ হিসাবে পরিচিত হলেও প্রার্থী আটকে আছে সাবেক সংসদ সদস্য পটল পরিবারে। কিন্তু নেতা কর্মীদের একটি বড় অংশ পরিবারের বাইরে মনোনয়ন চাইছেন। নির্বাচন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে এখনো কোন ধরনের সিদ্ধান্ত না আসায়, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে তৎপরতা না চালালেও কৌশলে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলকে চাঙ্গা রাখছেন।
নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া এলাকার একজন কৃষক মজিবর রহমান। জীবনের এই পড়ন্ত সময়েও শুধু জীবিকার তাগিদে নিয়মিত হাটে আসেন নিজের ক্ষেতে উৎপাদিত কিছু শাক-সবজি বিক্রি করতে। বেলা গড়িয়ে এলেও, বিক্রি শেষ করতে পারেননি।
তিনি জানান, সবজি বিক্রি করে উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন না। ভোট নিয়ে কথা বলতে গেলেই বলেন, এসবে তার আগ্রহ নেই, যেই দেশের দায়িত্ব নিক, তারা যেন কৃষি পন্যের ন্যায্য নিশ্চিত করে। আসছে নির্বাচন। তাই মজিবরের মত অন্যান্য কৃষকরাও তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার দাবি তোলেন।
তবে, প্রতিশ্রুতির আদান-প্রদান যাই হোক। এই আসনে নির্বাচনের বড় ফ্যাক্টর বড় দুই দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যায়। ফজলুর রহমান পটলকে হারিয়ে বিজয়ী হন মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির এম এ তালহা।
আর, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ উদ্দীনের ভাই আবুল কালাম। পরবর্তীতে দলের মনোনয়ন নিয়ে আবুল কালাম তার ভাবী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি শেফালী মমতাজের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
এবার চাচার সঙ্গে বিরোধ করে বাবার জনপ্রিয়তার মর্যাদা রক্ষায় মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ সাগর। তবে এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই জানিয়ে- আবারো মনোনয়ন পেলে জনগনের পূর্ণ সমর্থনে নৌকাকে বিজয়ী করবেন বলে আশা করেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম।
এদিকে এই আসনের বর্তমান সাংসদ শহিদুল ইসলাম বকুল ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামের দ্বন্দও পুরোনো। বকুলের সাফ কথা, দুর্নীতিবাজদের তিনি সাথে রাখেননি।
অতীতে লম্বা সময় বিএনপির দখলে থাকা এ আসন এখন আওয়ামী লীগের দখলে চলে গেলেও কোন্দলের কারণে তা হারাতে পারে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট হলে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে এ আসন, এমন শঙ্কাও রয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে।
এদিকে. এ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিবাদও প্রকাশ্য। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুর পর এখানে দলের নেতাকর্মীরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরিন, দলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম বিমেও নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
পটলের পরিবার থেকে ধানের শীষের প্রার্থী চাইবেন নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ। পটলের স্ত্রী ছাড়াও ছেলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইয়াসির আরশাদ রাজন, মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুলও মনোনয়ন চাইতে পারেন। তারা প্রকাশ্যে তৎপরতা না চালালেও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
আর এলাকার মানুষ চান, যেই প্রার্থী বা দলই আসুক না কেন, তাদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবে- এমন মানুষকেই দরকার। লালপুর-বাগাতিপাড়া নিয়ে গঠিত নাটোর-১ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪৮ জন। এরমধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৮ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪০ জন নারী ভোটার।
নাটোর-২: আওয়ামী লীগের গৃহবিবাদে নির্ভার বিএনপি