নীলফামারীতে গরু চোরচক্রের দলনেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত নীলফামারীর জলঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, গরু চুরি চক্রের দলনেতা জলঢাকার বগুলাগাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম (২৩), বারঘড়িয়া ধাড়াবেচাটারী গ্রামের ছাদেকুল ইসলাম (২৩), কদমতলী হাজীপাড়া গ্রামের উমর ফারুক (২৫), বগুলাগাড়ী মাঝাপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (২৫) ও পূর্বকাঠালী ক্যানেলেরপাড় গ্রামের শংকর চন্দ্র রায় (১৯)।
বুধবার দুপুরে নীলফামারী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. গোলাম সবুর।
এসপি গোলাম সবুর জানান, ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের শালনগ্রাম বটতলী গ্রামের কমলকান্ত রায়ের বাড়ি থেকে ছয়টি গরু চুরি হয়। ওই রাতেই জলঢাকা থানায় একটি মামলা দায়ের হলে চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোস্তফা মঞ্জুর ও জলঢাকা থানার ওসি মুক্তারুল আলমের নেতৃত্বে অভিযানে শুরু হয়। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, তরিকুল প্রথমে তার দুই সহযোগী শংকর ও ছাদেকুলকে সাথে নিয়ে সুপারি চুরি করার মধ্য দিয়ে চুরির কাজ শুরু করে। তারা বাগান থেকে সুপারি চুরি করে জলঢাকা বাজারে বিক্রি করতো। ওই বাজারে তাদের সাথে পরিচয় হয় চোর ফারুক ও আব্দুর রাজ্জাকের সাথে। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তরিকুলের নেতৃত্বে দিনের বেলায় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছাগল চুরি করে হাট-বাজারে বিক্রি করতেন।
এসপি জানান, ছাগল ছুরির পর তাদের সাথে আরও কিছু চোরের সখ্য গড়ে উঠলে তারা গরু চুরির পরিকল্পনা করেন। শংকর ও ছাদেকুল দিনের বেলায় রিক্সাভ্যানে চড়ে শালনগ্রাম, সাইডনালা, বারোগ্রাম এলাকায় কোন বাড়িতে গরু আছে তা খুঁজতেন। পরে তরিকুলের নেতৃত্বে অন্য সহযোগীরা রাতের বেলায় গরু চুরি করে নির্জন স্থানে অপেক্ষা করতেন। এরপর তরিকুল মোবাইল ফোনে কল দিলে মিনি ট্রাক নিয়ে হাজির হতেন উমর ফারুক। তারা চোরাই গরুগুলো ট্রাকে তুলে নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতেন। এভাবে তারা গত দেড় বছরে মোট ৪৮টি গরু চুরি করেছেন।
জলঢাকা থানার পরিদর্শক মো. মুক্তারুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তরিকুল, শংকর ও ছাদেকুলকে আদালতে নেয়া হলে তারা ৫০টি ছাগল ও ৪৮টি গরু চুরি করেছে বলে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য দুই আসামি উমর ফারুক ও আব্দুর রাজ্জাককে আদালতে হাজির করে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গরু চুরির কাজে ব্যবহৃত মিনি ট্রাক এবং চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে। একই সাথে এই চক্রের বাকি সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
