রাখাইনদের জীবন ও সংস্কৃতি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে কুয়াকাটায় নির্মাণ হলো রাখাইন জাদুঘর। এখানে রাখাইন সম্প্রদায়ের ব্যবহারের হাজার বছর আগের তৈজসপত্রসহ নানান শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। যা দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকরা।
রাখাইন জাদুঘর উদ্বোধনকে ঘিরে উৎসবমুখর ছিলো গোটা মিশ্রিপাড়া। সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন উপভোগ করতে ভিড় জমায় নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ।
প্রথম ধাপে, রাখাইনদের ব্যবহারের ২০ ধরনের উপকরণ আর তার স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। রয়েছে রাখাইন ভাষায় তালপাতায় লেখা পুঁথি, সেগুন কাঠের বাক্সসহ বিভিন্ন ধরনের পাত্র। পশুর হাড় দিয়ে তৈরি অস্ত্র, পিতলের ঘণ্টা, হরিণের চামড়াসহ নানান জিনিস। দেয়ালে আঁকা হয়েছে রাখাইনদের প্রথম রাজা চন্দ্রসূর্য ও শেষ রাজা মহাথামান্দার ছবিও।
দর্শনার্থীরা বলছেন, এর মাধ্যমে তারা রাখাইন জনগোষ্ঠীর জীবনী সম্পর্কে জানতে পারছেন।
মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরের পুরোহিত ও জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোক্তা জানান, এই জাদুঘর পর্যায়ক্রমে সমৃদ্ধ হবে।
মিশ্রি পাড়া বৌদ্ধ মন্দিরের পুরোহিত উত্তম ভিক্ষু বলেন, আমরা আসা করছি সামনে আরও পর্যটক জাদুঘরে আসতে উৎসাহী হবে।
জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা রাখাইন মং লাচিং বলেন, রাখাইনদের সংস্কৃতির সাথে অন্যদের পরিচয় করিয়ে দিতেই এ উদ্যোগ।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জাদুঘরে রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকছে।
তিনি বলেন, কুয়াকাটায় যারা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছেন- তারা সহজেই এ জাদুঘর ঘুরে রাখাইনদের সম্পর্কে জানতে পারবেন।
আর টুরিস্ট পুলিশ জানায়, পর্যটকদের সব ধরনের নিরাপত্তায় কাজ করবে টুরিস্ট পুলিশ।
কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসনাইন পারভেজ জানান, জাদুঘরের নিরাপত্তায় যতোটুকু নিরাপত্তা দরকার- পুলিশের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হবে।
১৭৮৪ সালে আরাকান রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আসার ২৩৯ বছর পর পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটায় দুই শতাংশ জমির উপর নির্মাণ হলো রাখাইন জাদুঘর।
সরকারি ছুটিতে সিলেটে বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়