ভারতের কর্ণাটকের সোমনাথপুরে হাজার বছরের পুরোনো হোয়াসালা মন্দির স্থান পেয়েছে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা-ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকায়।
সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৪৫তম সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এটি ভারতে ইউনেস্কো ঘোষিত ৪২ তম নিদর্শন। শান্তিনিকেতনের পর এই স্থাপত্যটি বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পাওয়ায় পর্যটনও বাড়বে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতের কর্ণাটকের সোমনাথপুরের হোয়াসালা মন্দির ১২শ’ ও ১৩শ’ শতাব্দীতে হোয়াসালা দাইনেস্তির শাসনামলে তৈরি। অনন্য স্থাপত্য শৈলীর কারণ এবছর এই মন্দির ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে স্থান করে নেয়ায় নতুন করে এটি এসেছে আলোচনায়।
এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে মন্দিরটির স্বীকৃতি পেতে ইউনেস্কোর কাছে সব তথ্য জমা দেয় ভারত। ২০১৪ সাল থেকেই এই মন্দির ইউনেস্কোর অস্থায়ী তালিকায়।
দর্শনার্থী বিমল কুমার রাও বলেন, ‘মন্দিরটি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা অসাধারণ, বিশেষভাবে এর স্থাপত্য শিল্পের জন্য। এক হাজার বছর পরেও মন্দিরটির রঙ সুন্দর। ইউনেস্কো এটাকে তার একটা গুরুত্বপূর্ণ সাইট হিসেবে ঘোষণা করায় এটা আরও বেশি বিকাশ লাভ করবে।’
দক্ষিণ ভারতের হাসান শহরে চন্নকেশব, হয়সালেশ্বর ও কেশব এই তিনের সমন্বয়ে গঠিত গঠিত হোয়াসালা মন্দির। এগুলো নরম সাবান পাথর বা ক্লোরিটিক শিস্ট দিয়ে তৈরি, যা খুব সহজেই খোদাই করা যায়।
শহরটিতে এমন বেশ কয়েকটি সুরক্ষিত ও অরক্ষিত মন্দির রয়েছে। আছে প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ। মন্দিরের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।
হোয়াসালা মন্দির ভারতের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের স্থাপত্য বিদ্যার এক নান্দনিক নিদর্শন। তাই, এখানকার ভেঙে ফেলা অংশগুলোও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যে এটি স্থান করে নেয়ায় আগামীতে দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়বে বলে মনে করছে ভারত সরকার।
