মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নির্মাণাধীন ভবনের নিচে পুঁতে রাখা নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনা হাদিস পার্কের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
নিহত রোকসানার (৪৫) বাড়ি জেলার সিংগাইর উপজেলার বায়রা নয়াবাড়ী এলাকায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. বাবুল (৩৮)। তার বাড়ি জেলার হরিরামপুর উপজেলার দরিকান্দি এলাকায়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান।
পুলিশ সুপার জানান, তিন বছর আগে রোকসানাকে বিয়ে করেন বাবুল। বিয়ের পরেই সৌদি আরব চলে যান রোকসানা। বিদেশ থেকে নিয়মিতভাবে দেশে স্বামীকে টাকা পাঠাতেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে সদর উপজেলার শানবান্দা এলাকায় জমি ক্রয় করে একতলা বাড়ি নির্মাণ করেন বাবুল। ছয় অক্টোবর ছুটিতে দেশে আসেন রোকসানা। দেশে এসে সাভারের একটি ভাড়া বাসায় স্বামী বাবুলসহ তিনি থাকতেন।
তিনি আরও জানান, ১৩ অক্টোবর শানবান্দা গ্রামের ওই বাড়িতে আসেন রোকসানা-বাবুল দম্পতি। রাতে সেখানে পারিবারিক বিষয় নিয়ে রোকসানার সঙ্গে বাবুলের কথা কাটাকাটি হয় বাবুলের। ভোর রাতে রোকসানাকে ঘুমের মধ্যে শ্বাসরোধে হত্যা করে পাশের রুমের মেঝের নিচে মরদেহটি পুঁতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল। এরপর ওই বাড়ি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ আসলে আশেপাশের লোকজন নির্মাণাধীন ওই বাড়িতে ঢুকে মেঝের মাটি সরালে তারা ওই নারীর বাম হাতের কবজি দেখতে পান। এরপর সদর থানা পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের ভাই জেলা হাসপাতালে এসে ওই নারীর নাম পরিচয় জানান।
তিনি জানান, রোকসানাকে হত্যার পুরো বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বাবুল। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
