বান্দরবানে নৌকার মাঝি বীর বাহাদুরই, ছন্নছাড়া বিএনপি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৩৩ পিএম

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর আবার অশান্ত হয়ে উঠছে বান্দরবানের পাহাড়। সম্প্রতি কেএনএফ ও মগ বাহিনীর উত্থানে নির্বাচনসহ সব কিছু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পাহাড়িরা। তবে, বর্তমান সংসদ সদস্য এই সন্ত্রাসীদের পাত্তা দিতে চান না। তিনি জানান, উন্নয়নই হবে আগামী নির্বাচনের প্রধান ফ্যাক্টর।

ভোটাররা আরও জানান, এখানে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীর আলাদা ভোট ব্যাংক রয়েছে। তবে, তাদের কারোই আলাদাভাবে জয়ী হওয়ার অবস্থা নেই। নিবন্ধন বাতিল, বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ও দেশান্তরসহ নানা সংকটে নির্বাচন বিমুখ হয়ে পড়েছে জামায়াাতসহ আঞ্চলিক দলগুলো
নতুন করে গজিয়ে ওঠা আঞ্চলিক সংগঠন কে.এন.এফ এবং মগ বাহিনীর সশস্ত্র সাংঘর্ষিক অবস্থানের কারণ এখন উদ্বিগ্ন গোটা বান্দরবান। বাসিন্দারা মনে করেন, প্রচলিত রাজনৈতিক দল এবং পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো তাদের মাথা ব্যথার কারণ নয়। নতুন দুই সন্ত্রাসী সংগঠনের সশস্ত্র অবস্থান সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে। ভোটারদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে পারে।

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বান্দরবান নম্বর আসন ধরে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। এখানে গেলো ছয়টি নির্বাচনের সব কটিতেই জয় পেয়েছে নৌকা। প্রতিবারেই মাঝি ছিলেন জেলার জনপ্রিয় নেতা বীর বাহাদুর উ শৈ সিং। এবার সপ্তমবারের মতো বিজয়ী হয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে চান তিনি।

বান্দরবানে নৌকার মাঝি বীর বাহাদুরই, ছন্নছাড়া বিএনপি

অন্যদিকে নিজেদের কোন্দল মিটিয়ে আসন দখল নিতে তৎপর বিএনপি। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে টানা ছয়বার নির্বাচিত বীর বাহাদুর বীর বাহাদুর উ শৈ সিংয়ের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, কোন দল কাকে সমর্থন দিচ্ছে, তা নিয়ে নেতা-কর্মীদের দ্বিধার শেষ নেই।

সাত উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা নিয়ে গঠিত সংসদীয় এই আসন। বান্দরবান আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার। বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ আসন থেকে ছয় বার নির্বাচিত বীর বাহাদুরকে একক প্রার্থী ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে নাম প্রস্তাব করে পাঠানো হয়েছে।

১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে নব কটি নির্বাচনেই জিতে এসেছেন বীর বাহাদুর। ছাত্র জীবনে ভালো ফুটবলার এবং পরে রেফারি, তারপর খেলার মাঠ থেকে জাতীয় সংসদে। সেই থেকে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী সবই হয়েছেন। এখনও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।

নিজ সংসদীয় আসন বান্দরবান ছাড়াও রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায়ও যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, অবকাঠামোসহ ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত করেছেন বীর বাহাদুর। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়, দল মত নির্বিশেষে সকলের আস্থার ঠিকানা এবং মডেল পার্বত্য এলাকা ও উন্নয়নের কারিগর বীর বাহাদুর।

এখানে সরকার দলীয় সংগঠনে অন্তকোন্দল নেই বললে চলে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সপ্তমবারের মত বীর বাহাদুরকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। নবম ও দশম  সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিএনপি প্রার্থীর সাথ ভোটের ব্যবধান ছিলো যথাক্রমে প্রায় ২৭ ও  ৮৪ হাজার।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ক্যশৈহ্লা বলেন, আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বীর বাহাদুর। জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এ ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছে।  তিনি জেলায় এত বেশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন, যার ফলে মানুষ ফের সপ্তমবারের মতো আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে।

বান্দরবানে নৌকার মাঝি বীর বাহাদুরই, ছন্নছাড়া বিএনপি

বান্দরবানে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। বিএনপি নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। তবে তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি।

দলীয় নেতা-কর্মীদের চেয়ে দেশের স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ওপর অতি নির্ভরশীলতার কারণে বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব কমছে না, আর এর কারণ হিসেবে সাচিং প্রু জেরীর জামায়াতপ্রীতিকে দায়ী করেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

তবে বিএনপি জোটে এখন জামায়াতে ইসলামী না থাকার কারণে রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে সাচিং প্রু মনোনয়ন পেতে পারেন, এমন মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। জেলা বিএনপি নেতা জাবেদ রেজা বলেন, যদি বিএনপি নির্বাচনে যায়, তাহলে যিনি মাঠে ছিলেন এবং আছেন তাকেই দল প্রার্থী করবে।

জানা যায়, সাবেক সভাপতি সাচিং প্রু আর বর্তমান সভাপতি মাম্যাচিং সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন চরমে। সহযোগী সংগঠনগুলো তাদের আলাদা দলীয় কর্মসূচি পালন করে। ফলে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে, বিএনপির কোন্দল ততই দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

জেলা বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, জেলা-উপজেলাজুড়ে একসময় বিএনপির কর্মী-সমর্থক ছিল প্রচুর, ছাত্রদল আর যুবদল ছিল দলের মূল শক্তি। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতাদের চরম অনৈক্য আর স্বার্থের রাজনীতির কারণে বর্তমানে তাতে ভাটা পড়েছে, যার প্রভাব পড়বে নির্বাচনের মাঠে।

বান্দরবানে নৌকার মাঝি বীর বাহাদুরই, ছন্নছাড়া বিএনপি

জেলায় জাতীয় পার্টির দুটি অংশের রাজনীতি সীমিত আকারে থাকলেও জেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সভাপতি ক্য শৈ অং বা সাধারণ সম্পাদক শওকত জামান মিশু নির্বাচনী প্রার্থী হতে পারেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (বিদিশা) সভাপতি কাজী নাসিরুল আলমকে প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

বান্দরবান আসনে বিগত সময়ে জনসংহতি সমিতি থেকে প্রার্থী দেয়া বা অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হলেও এবার বিভিন্ন মামলার কারণে সংগঠনটির নেতারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়ায় তাদের থেকে প্রার্থী কে হবেন, সে নিয়ে কোনো আভাস নেই। প্রার্থী দেয়া না হলে তাদের ভোটব্যাংক যাবে বিএনপির দিকে।

তবে সাধারণ মানুষের বক্তব্য, গেলো ১৫ বছরে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্নখাতে উন্নয়ন পেয়েছেন। পর্যটন বান্ধব জেলা গড়ে তুলতে আরও প্রত্যাশা তাদের রয়েছে।  বান্দরবান পৌর মেয়র জানান, সব ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক, স্কুল ও সব ধর্মের মানুষের জন্য প্রার্থনাগার ও স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। সুপেয়ে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটাররা চান, উন্নয়নের এমন ধারা অব্যাহত থাকুক।

একাত্তর/আরএ

২০২৭ সালের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের তিনটি আলাদা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। এতে সর্বোচ্চ প্যাকেজ খরচ প্রায় আট লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজ খরচ পাঁচ লাখ...
বিএনপি উন্নয়নের কথা বলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সংস্কারের কথা শুনলেই দলটির ‘গায়ে আগুন লেগে যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। 
ভারতের জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল আন্দোলনের মধ্যে অনশনরত বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে হাসপাতালে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।...
দেশের টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাতের বিদ্যমান নানা সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর