দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতার কারণে এই আসনে সব সময় হেরে যায় আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালেও এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। কায়কোবাদ এই আসনে কখনো বিএনপি আবার কখনও জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচন করেছেন। মামলাজনিত কারণে কায়কোবাদ এ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার পরিবার থেকে যে কেউ দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে প্রচার রয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। এর আগে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগ তাকে দলে টেনে নেয়। এবার জাতীয় সংসদের দ্বাদশ নির্বাচনেও তিনি এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
ভোটারদের মত এ আসনের ভোটের সমীকরণ একই রকম রয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন- কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার। বিএনপিতেও রয়েছে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনটি দেশের ২৫১ নং আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮৫ হাজার ৫৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫২ হাজার ৫০৮ জন ও নারী ভোটার দুই লাখ ৩২ হাজার ৫৪৩ জন এবং হিজরা ভোটার দুই জন।
১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. ওয়ালী আহাম্মদ এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এরপর আর এখান থেকে জয়ের মুখ দেখেনি আওয়ামী লীগ। আসনটি দীর্ঘ সময় বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের দখলে ছিল।
তিনি এই আসনে প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে একবার, পরে জাতীয় পার্টি থেকে দুইবার এবং সর্বশেষ বিএনপি থেকে দুইবারসহ টানা পাঁচবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ আসনটিতে বিএনপি ও কায়কোবাদের পরিবারের বেশ প্রভাব রয়েছে। এ প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এবারও আসনটিতে সুবিধা নিতে চায় বিএনপি। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বিএনপি থেকে এবারও মনোনয়ন চাইতে পারেন।
তবে তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পর থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ মামলায় তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তও হয়েছেন। বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করছেন, যাবজ্জীবন সাজার দণ্ড খাটতে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।
ফলে এই আসনে তার ভাই কে এম মজিবুল হক দলের প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। কে এম মজিবুল হক এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে দলের প্রার্থী হয়েছিলেন। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার মো. রাশেদুল হাসান মামুনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। ২০১৮ সালে তিনি জিতেছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে। এবারও তিনি মনোনয়ন চান। ভোটাররা অবশ্য জানান, তারা চান উন্নয়ন। ভোটারদের সেই চাওয়ায় বারবার সমর্থন জানান সংসদ সদস্য।
মুরাদনগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দুটি ধারা। একটির নেতৃত্বে আছেন এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এবং আরেকটির নেতৃত্বে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকার। জাহাঙ্গীর কয়েকবার এই আসনে নির্বাচন করেছেন। এছাড়াও দলীয় মনোনয়ন চান আরও তিনজন প্রভাবশালী নেতা।
এদিকে, জামায়াতের নেতা ও মুরাদনগর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হাকিম সোহেল এবং জাতীয় পার্টির থেকে আক্তার হোসেন মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে।
একাত্তর/আরএ
কুমিল্লা-১ আসনে মূল লড়াই বড় দুই দলের ভেতরেই
কুমিল্লা-২: আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে প্রার্থিতার লড়াই তুঙ্গে