দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও কুমিল্লা-১ আসনে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে সবাই। মাঠ গোছাতে এখন মরিয়া নির্বাচনী মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরা। এই আসনে এবার একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় দুই দলেই মনোনয়ন প্রত্যাশীর ছড়াছড়ি।
দীর্ঘদিন পর এই আসনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সুবিদ আলী ভূঁইয়া। আসনটি উদ্ধার করতে চান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড.খন্দকার মোশারফ। জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন ভূঁইয়া।
আর তাই নির্বাচনী হাওয়া বইছে জেলার পশ্চিম-উত্তর অংশের প্রথম আসনটিতে। ভোটাররা জানান, এখানে যার যার দল থেকেই শুরু হবে প্রতিযোগিতা। এমনকি জাতীয় পার্টিতেও আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যা তিনজন। ফলে নির্বাচন হলে তিন দলকেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে প্রার্থী বাছাইয়ে।
দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-০১ আসন। সম্প্রতি আসন পুনর্বিন্যাসে কুমিল্লা-১ আসনের সঙ্গে থাকা মেঘনা উপজেলাকে কুমিল্লা-২ আসনের সঙ্গে এবং কুমিল্লা-২ আসনের সঙ্গে থাকা তিতাস উপজেলাকে কুমিল্লা-১ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
বড় বড় দলগুলো নেতারা একই রকম থাকলেও বদলে গেছে এই আসনে ভোটের চিরচেনা চিত্র। এই আসনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসতে ২০০৮ পর্যন্ত সময় লেগেছে। এরপর থেকে তারাই আছেন। সরকারের উন্নয়নে মানুষের সন্তুষ্টি আছে। তাই এবারও ভোটাররা নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন।
তবে বিএনপির সময়ে করা হাসপাতালগুলো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ জানান কেউ কেউ। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের অনুকূলে থাকলেও নির্বাচনকে ঘিরে এলাকার রাজনীতি পক্ষ-বিপক্ষ ৩টি ধারায় বিভক্ত। তৃণমূল বলছে, এটা প্রতিযোগিতা, প্রতিহিংসা নয়। দল যাকে বেছে নেবে তার পক্ষেই সবাই।
স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে বিএনপি ছাড়া কোন দলই ধারাবাহিকভাবে আসনটি ধরে রাখতে পারেনি। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রফেসর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে আসনটি বিএনপির ঘরে থাকলেও ২০০৮এর নির্বাচনে তা ছিনিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ।
সেবার নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সুবিদ আলী ভূঁইয়া। তিনি মনে করেন, এলাকায় যে পরিমাণ উন্নয়ন তিনি করেছেন, তাতে এবারও মানুষ তার পক্ষে থাকবে। তার নেতৃত্বে আসনটি ফিরে পাওয়ায় দল তাকেই মনোনয়ন দিবে বলে আশাবাদী তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে আওয়ামী লীগের ব্যানারে আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- বঙ্গমাতা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা শিল্পপতি হাসান জামিল ছাত্তারের ছেলে ব্যারিস্টার নাঈম হাসান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান জয় এবং শফিউল বশর ভান্ডারী।
তবে এসব প্রার্থীরা জানান, তারা যার যার মত করে কাজ করেছেন। সবাই আওয়ামী লীগের আমলে দেশ এগিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরছেন। বড় দলে একাধিক প্রার্থী থাকতেই পারে, তাই বলে এনিয়ে কোন রকম বিরোধ নেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই তার পক্ষেই থাকবেন তারা।
এ আসনে বিএনপি থেকে দীর্ঘদিন নির্বাচন করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ থাকলেও তার দলের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা তার পক্ষে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মীরা জানান, আইনি জটিলতায় খন্দকার মোশাররফ নির্বাচন না অংশ না পারলে তাঁর ছেলে ও বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ হোসেন এখানে দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ বর্তমান আওয়ামী লীগ সাংসদ তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ড. মোশাররফ হোসেনের মতো জাতীয় নেতাকে নিজ এলাকায় সভা সমাবেশ করতে বারবার বাধা প্রদান করেছে।
এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকেও প্রার্থী তিনজন। এরা হচ্ছেন, আবু জায়েদ আল মাহমুদ, সাবেক এমপি আমির হোসেন ভূঁইয়া এবং ইফতেখার আহসান। এ আসন থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা দলের পক্ষে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালে এ আসনটিতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোস্তাক বিজয়ী হন। ১৯৭৯ সালে জাসদ থেকে আব্দুর রশিদ ইঞ্জিনিয়ার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলে ১৯৮১ সালে দাউদকান্দির উপনির্বাচনে এমপি হন বিএনপি থেকে আব্দুল আলী মুন্সী।
১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুর রশিদ ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়া এমপি নির্বাচিত হন।
একাত্তর/আরএ
রাঙ্গামাটিতে বড় দুই দলেরই চ্যালেঞ্জ আঞ্চলিক দল