নেপালে শুক্রবার রাতে আঘাত হানা ছয় দশমিক চার মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলছে। সেই ভূমিকম্পে দিল্লি এবং আশপাশের শহরগুলোতে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। গত এক মাসের মধ্যে নেপালে তিনটি জোরালো ভূমিকম্প হলো।
এর আগে ২০১৫ সালে নেপালে ভয়াবহ একটি ভূমিকম্প হয়েছিলো। তাতে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার মানুষের। আহত হয়েছিলেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ। সাম্প্রতি হিমালয় কন্যা হিসাবে খ্যাত নেপালে ভূমিকম্পের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তার বলিরেখা ফুঁটে উঠেছে বিজ্ঞানীদের কপালে।
তবে হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় কেন ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে, সেই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানাচ্ছেন, হিমালয়ের নিচে ভূকম্পন বলয় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যার কারণে ইন্ডিয়ান প্লেটের সঙ্গে ইউরোশিয়া প্লেটের সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ইন্ডিয়ান প্লেটটি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে আগাচ্ছে। এর ফলে ইউরেশিয়া প্লেটের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হতে পারে। তাই হিমালয় এলাকায় যে কোনো মুহূর্তে বড়সড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। তাই এসব অঞ্চলে বসবাস করা নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছের বিজ্ঞানীরা।
শুক্রবারের ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল নেপালের ডোটি জেলার কাছে। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসেও ওই একই এলাকায় ভূমিকম্প হয়েছিল, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ছয় দশমিক তিন। এছাড়া তিন অক্টোবর নেপালের ওই এলাকাতেই পর পর বেশ কয়েক বার কম্পন অনুভূত হয়। কম্পনগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল কম।
গবেষণা বলছে, চার থেকে পাঁচ কোটি বছর আগে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং ইউরেশিয়া প্লেটের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলেই তৈরি হয়েছিল হিমালয় পর্বতমালা। ইন্ডিয়ান প্লেটের সেই উত্তরাভিমুখী অভিগমন এখনও থামেনি। তাই ছোট-বড় ভূমিকম্প ওই এলাকায় লেগেই আছে।
ভারতের প্রখ্যাত ভূকম্পনবিদ অজয় পাল জানান, ইন্ডিয়ান প্লেটের সক্রিয়তার ফলে ইউরেশিয়া প্লেটের ওপরে যে চাপ তৈরি হচ্ছে, আগামী দিনে তা বড়সড় ভূমিকম্পের আকার নিতে পারে। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা হতে পারে আটেরও বেশি। সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
নেপালে ভূমিকম্প, ১২৮ জনের মৃত্যু