বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী কবিতা থেকে গান ‘কারার ওই লৌহ কপাট’। এই গানের সংগীত আয়োজন করে সমালোচনার মুখে পরেছেন ভারতের সুরের জাদুকর খ্যাত এ আর রহমান।
সাধারণ সংগীতপ্রেমী থেকে বিশিষ্টজন সবাই এর সমালোচনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনা। এর আর রহমানের প্রতি খোলা চিঠিও লিখছেন অনেকেই।
আর কবির নাতনি খিলখিল কাজী বললেন, এ আর রহমান ‘গর্হিত অপরাধ’ করেছেন।
শনিবার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা এমন কিছু গান আছে যা শুনলে আজও মানুষ উজ্জীবিত হয় একই সাথে দেশাত্মবোধের ভাব মনকে নাড়া দিয়ে যায়। আর এই গানগুলোর অন্যতম ‘কারার ওই লৌহ কপাট’। জহির রায়হান তার কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমায় এই গানটি উপস্থাপন করেছিলেন সুনিপুণভাবে।
শুক্রবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে ‘পিপ্পা’ সিনেমাটি। সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছে ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি। গানটিকে নতুনভাবে আয়োজন করেছেন অস্কারজয়ী গায়ক এ আর রহমান। আর এই গানটি শুনেই চটেছেন বাংলাদেশিরা। বাঙালিরা এই গানটিকে যেভাবে শুনে আসছেন এতো দিন ধরে সেটার সঙ্গে এটার কোনো মিল খুঁজে পাননি তারা।
নজরুল ইনস্টিটিউটের সভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করেছি ভারতের একজন বিখ্যাত সুরকার খুব্ই দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এই কাজটি করে তিনি কাজী নজরুল ইসলামেক অসম্মানতো করেছেনিই। আমি মনে করি, প্রতিটি বাঙালির মনে আঘাত করেছেন।
সংস্কৃতিজন মুস্তাফা খালিদ পলাশ জানান, সুরশ্রষ্ঠা এ. আর. রহমানের হাতে ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানটি অপঘাতাক্রান্ত হয়েছে।
নজরুল সংগীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা বলেন, গানটির দ্বিতীয় কোনো সুর ছিলো না। এর আর রহমান এটা করলেন। কের করলেন আমি জানি না। মূল সুরটা শুনলে এটা করতেন না। মূল সুরটি এত ভালো। আর একটা সুর কেন করতে যাবেন।
কবি নজরুলকে নিয়ে যে অন্যায়গুলো হচ্ছে সেগুলো শক্ত হাতে প্রতিরোধ করার কতা বলেন তিনি।
‘পিপ্পা’ ছবিতে গানটিকে নতুনভাবে আয়োজন করেছেন অস্কারজয়ী গায়ক এ আর রহমান। তবে গানটি শুনে খুশি হতে পারেননি শ্রোতা, ভক্ত কেউই। বরং গানটির মন্তব্যের ঘরে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই, সেই তালিকায় রয়েছেন সঙ্গীতাঙ্গণের গুণীজনরাও।
সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার বলেন, আমি বহু আগে থেকে এর আর রহমানের ভক্ত। কিন্তু আমি শকড! এমন একটা কাজ আমি আশা করিনি।
এই গানটি সিনেমার জন্য নতুনভাবে আয়োজন করেছেন এ আর রহমানসহ একাধিক বাঙালি গায়ক। তারা হলেন তীর্থ ভট্টাচার্য, রাহুল দত্ত, পীযুষ দাস, শালিনী মুখোপাধ্যায় । কিন্তু সবার প্রয়াস যেন বৃথা গেলো। এই গান পছন্দ করেননি কেউ।
চলচ্চিত্র গবেষক বিধান রিবেরু বলেন, এ গানে যে মর্মকথা সেটা যদি এ আর রহমান একটু রেফারেন্স আকারেও দেখতেন তাহলে তিনি বুঝতে পারতেন, এই গানের স্পিরিট বা চেতনার জায়গা কোথায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গানটির কমেন্ট বক্সে নেটিজেনদের অধিকাংশই নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। অনেকেই বলছেন কাজী নজরুল ইসলামের এমন একটি গানে আত্মাকে ধ্বংস করা হয়েছে।
অনেকেই লিখেছেন, ‘বিশ্বাস করতে পারছি না কোনো গানের আত্মাকে এ আর রহমান এভাবে খুন করতে পারেন!’
