ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় পটুয়াখালীতে রোপা আমন ফসলের ৭৫ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার এক লাখ ৮০ হাজার হেক্টর রোপা আমন ফসল ঘূর্ণিবাতাসের শিকার হয়েছে। খেসারিসহ মাঠে থাকা সবজিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে ক্ষেতের ধান হেলে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ২৮ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত।
কৃষকরা বলছেন, শুধু ধান নয় উপজেলার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আবাদ শুরু করা আগাম তরমুজের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ২৫০ হেক্টর জমির খেসারি ডালসহ মৌসুমি শাক-সবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাপাড়ার নীলগঞ্জ, লতাচাবলী ও ধুলাসার ইউনিয়নের কৃষকরা। ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় নয় হাজার হেক্টর জমির আমন ধান নষ্ট হয়েছে।
ঝালকাঠিতেও শীতকালীন সবজিসহ ধানের ক্ষতি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে। দু-এক দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে বলছে কৃষি বিভাগ।
পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ির উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ায় ধানসহ কৃষির বেশ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত মুশুলধারে বৃষ্টি হয়েছে। জমিতে হেলে পড়েছে রোপা-আমন ধান। আট উপজেলার প্রায় অনেক জমির আধা-পাকা ধান বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে শীতের আগাম সবজিও।
এবার পটুয়াখালীতে এক লাখ ৯১ হাজার ১১৯ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ ভাগ পাকা ও ২০ ভাগ আধাপাকা অবস্থায় আছে। ৭৫ ভাগ ধানে ফুল আসছে। এ অবস্থায় ঝড় হাওয়ায় ধানে চিটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন জানিয়েছেন, ঝড়ে জেলায় মোট ১৩৩টি ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে মোংলা-পায়রা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হতে দেখা গেছে। এছাড়া গাছ ভেঙে পড়াসহ দুবলার চরে কোটি টাকা মূল্যের শুঁটকি মাছ নষ্টেরও খবর পাওয়া গেছে।
দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুমে মিধিলির প্রভাব, জেলেদের মাথায় হাত