শেষ পর্যন্ত পুলিশে আত্মসমর্পণ করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা (৭৯)। জুমা দেশটির একমাত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট, যিনি কারাভোগ করতে আত্মসমর্পণ করলেন। গত ২৯ জুন আদালত অবমাননার দায়ে জুমার ১৫ মাসের কারাদণ্ড হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালেই জুমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। তদন্তের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে জুমাকে তলব করে আদালত। কিন্তু সে সময় আদালতে হাজির হননি তিনি।
পরে আদালত অবমাননার দায়ে গত ২৯ জুন জুমার ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ আদালত। স্বেচ্ছায় পুলিশে ধরা দিতে পাঁচ দিনের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোববার (৪ জুলাই) রাতে ওই সময়সীমা শেষ হলেও আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানান জুমা।
করোনা ভাইরাসের মধ্যে কারাগারে যেতে রাজি ছিলেন না ৭৯ বছর বয়সী জুমা। করোনার মধ্যে কারাগারে গেলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়বেন, এমন শঙ্কার কথাও জানান তিনি।
বুধবার (৭ জুলাই) দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ আবারও মধ্যরাতের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলেন জুমাকে। পুলিশের এমন হুঁশিয়ারির পর মধ্যরাতে আত্মসমর্পন করেন তিনি।
জ্যাকব জুমা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোয়া-জুলু নাটাল প্রদেশে নিজের বাসভবনের কাছেই এক কারাগারে দণ্ড ভোগ করতে গিয়েছেন জুমা।
এর আগে ক্ষমতায় থাকাকালেই জুমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তদন্ত করছিলেন দেশটির উপপ্রধান বিচারপতি রেমন্ড জোনডো। তদন্তের জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে জুমাকে আদালতে তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। এ কারণে আদালত অবমাননার দায়ে তাঁকে ১৫ মাস কারাবাসের এই দণ্ড দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: গুগল, ফেসবুক ও টুইটারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা
উল্লেখ্য, ৯ বছরের শাসন শেষে ২০১৮ সালে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করেন জুমা। দুর্নীতি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের রাস্তা অনেকটা প্রশস্ত করে দেন তিনি। এছাড়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত 'গুপ্ত পরিবার' নামে একটি ব্যবসায়ী পরিবারকে নানা রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন তিনি। ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের তিন ভাই অজয় গুপ্ত, অতুল গুপ্ত ও রাজেশ ওরফে টনি গুপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা শুরু করেন ১৯৯৩ সালে। জুমার শাসনামলে সরকারি বড় বড় প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয় গুপ্ত পরিবারকে। অভিযোগ আছে, জুমার মাধ্যমে এই পরিবারই দক্ষিণ আফ্রিকার বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো নিতো।
একাত্তর/আরবিএস
