তফসিল বাতিলের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টা হরতাল শেষে একদিনের বিরতি দিয়ে আবারও দুইদিন অবরোধ কর্মসূচি দিলো বিএনপি।
ষষ্ঠদফার এই অবরোধ কর্মসূচি সোমবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশ্বাসী নয়, সরকারের লক্ষ্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা। নির্বাচনের নামে ইয়ার্কি করছে কমিশন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের আগে মাঠ ফাঁকা করতে পুরনো মামলায় বিএনপির নেতাদের সাজা দেয়ার হিড়িক শুরু করেছে। আজ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ ১৪জন নেতাকে পুরনো মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার অংশ হিসেবে সাজা দেয়ার পথ বেছে নিয়েছে। সরকারের কাছ থেকে নির্দেশনা যাচ্ছে, তা দেখে আদালত রাজনৈতিক মামলায় সাজা দিচ্ছে। ভয়ঙ্কর শৃঙ্খলে আটকা পড়েছে গণতন্ত্রকামী মানুষ।’
রিজভীর দাবি, গত ২৪ ঘন্টায় ১৭টি মামলায় সারাদেশে তার দলের ৪৮০জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তমার করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বলছেন আদালত সেভাবেই রায় দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল প্রত্যাখান করে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি শেষ হবে মঙ্গলবার ভোর ৬টায়।
মঙ্গলবার বাদ দিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি ও তাদের আন্দোলনের সঙ্গীরা।
সরকার পতন এবং নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর, ২৯ অক্টোবর হরতাল পালন করে বিএনপি। ওইদিনই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আটক হন। একে একে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনেকে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অবরোধের থেকে সরে আবারও হরতালে ফেরে বিএনপি। ১৬ নভেম্বর রোব ও সোমবার টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয় বিএনপি ও তার আন্দোলনসঙ্গীরা। সোমবার ভোর ছয়টায় শেষ হচ্ছে ৪৮ ঘণ্টার ওই হরতাল।
সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো সহিংস আন্দোলন চালাচ্ছে। আর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করার অবস্থানে অনড়।
একই দাবিতে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে সেই নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি গণফোরামের ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ভোটে অংশ নেয়। ভোটে ভরাডুবি ঘটে বিএনপির। এরপর কারচুপির অভিযোগ তোলে তারা। সংসদের মেয়াদের শেষ দিকে এসে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করেন।
এবার ২০১৪ সালের মত একই দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। ফিরে এসেছে সংঘাতের পরিবেশ।
যানবাহনে অগ্নিংযোগ আর নাশকতার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৯টি যানবাহনে আগুন লাগানো হয়েছে।
আগুন সন্ত্রাসের হোতা যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫
ভরদুপুরে মিরপুরে বিআরটিসি বাসে আগুন