তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমলো ৬৪২ কোটি টাকা

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৪৪ পিএম

বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরও বেড়েই চলেছে ব্যাংক খাতের ‘প্রধান সমস্যা’ খেলাপি ঋণের পরিমাণ। একবার কিছু কমছে তো আবার বেড়ে যাচ্ছে। গত জুন প্রান্তিকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

স্বাভাবিকভাবেই ধারণা ছিলো পরের প্রান্তিকে কমে আসতে পারে। কমেছেও তাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৬৪২ কোটি টাকা কম। আর এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও খেলাপি ঋণকে ব্যাংকিং খাতের বড় দুই সমস্যা। ব্যাংকখাতে প্রধান এ সমস্যা মোকাবেলায় ঢালাওভাবে ছাড় নয় বরং পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যাংকিং সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রহিতা ও দাতার ক্ষেত্রে একইভাবে রেগুলেশন প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি নৈতিকতার অনুশীলন প্রয়োগেরও পরামর্শ তাদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এটি গত বছরের (সেপ্টেম্বর-২০২২) একই সময়ের চেয়ে ২৩ হাজার এক কোটি টাকা বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিলো এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিলো ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছিলো এক লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। প্রান্তিকটিতে দেশের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে খেলাপি ঋণ।

আর মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিলো এক লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। সে হিসাবে ছয় মাসের মাসের ব্যবধানে সবশেষ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে ২৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা বেড়ে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিলো এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

অপরদিকে ডলার সঙ্কটে পড়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ নেয় বাংলাদেশ। ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭৬ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার বা ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার পেয়েছে দেশ। বাকি ছয় কিস্তির মধ্যে আগামী ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের কথা রয়েছে। কয়েক ধাপে ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে সংস্থাটি ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার শর্ত জুড়ে দেয়।

২০২৬ সালের মধ্যে বেসরকারি খাতে খেলাপি ঋণ পাঁচ শতাংশের নিচে এবং সরকারি ব্যাংকে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। সবশেষ প্রতিবেদন মতে, খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে এলো, অর্থ্যাৎ ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

 আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের অন্যতম শর্ত হচ্ছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। তবে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। আইএমএফর শর্ত মতে, পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা ঋণ, সন্দেহজনক ঋণ ও আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ থাকা ঋণকেও খেলাপি দেখাতে হবে। সেক্ষেত্রে আইএমএফের হিসাবে খেলাপি দাঁড়াবে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। একই সাথে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।

এর আগে, বর্তমান গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার জানিয়েছিলেন, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংকিং খাতের বড় দুই সমস্যা। খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের আরও ভূমিকা নিতে হবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে আমাদের তেমন সফলতা আসছে না। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আর কঠোর হতে হবে। খেলাপি কমাতে না পারলে সেসব ব্যাংকগুলোর শাখা বন্ধের নির্দেশ দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, খেলাপি ঋণ বন্ধে আমাদের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপও নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। খেলাপির যে চিত্র যা উঠে এসেছে প্রকৃত চিত্র এটা না। প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ, আরও বড় হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে ছাড় দেওয়া হলো, অন্য সময়ও ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মোট ঋণের কিছুটা পরিশোধ করলেই আর খেলাপি হচ্ছেন না, এমন সুবিধার পরও সুফল কতোটুকু?

জাহিদ হোসেন বলেন, গ্রাহককে ঋণ পরিশোধে বার বার সুযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুফল আসছে না। যে রেগুলেশন আছে সেটা কঠোরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না, কঠোরভাবে করতে হবে। ঋণ বিতরণ ও ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে একই চোখে দেখতে হবে। এক কথায় লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। একদিকে ব্যাংক খাতে ঋণ আদায় হচ্ছে না, আবার বিতরণও হচ্ছে এভাবে খেলাপি কমবে না।

কেএসএইচ
ব্যাংক খাতের লুটপাট ও সুশাসনের অভাবে তৈরি হওয়া ক্ষতি কাটাতে সরকারের কাছে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি দেশের সব লেনদেন ‘বাংলা কিউআর’-এর আওতায় আনা সম্ভব হলে বছরে আরও...
দেশে সর্বজনীন বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। গত ৯০ দিনে বাংলা কিউআরে লেনদেনের সংখ্যা সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে, আর টাকার অংকে এ লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। বর্তমানে বাংলা...
ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির চার আমানতকারী যাতে তাদের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে  হাইকোর্ট।
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের টাকা জমা দেওয়ার সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাগুলোকে আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সব থেকে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া যদি...
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা শেষে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতেই পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দেশব্যাপী তোলপাড় ও সমালোচনার মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক...
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানে মারাত্মক ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর