দিনের বেলা বাস কোম্পানির নিরীহ ম্যানেজার। আর রাতে অবৈধ সীসার কোটি কোটি টাকার কারবার। এভাবেই নিজেকে আড়াল করে রাজধানীতে অবৈধ সীসা গলানোর ভাট্টি গড়ে তুলেছেন হারুন অর রশিদ নামের একজন। কোনো এলাকায় কড়াকড়ি হলেই তিনি অন্য এলাকায় গিয়ে জমি ভাড়া নিয়ে ভাট্টি তৈরি করেন। ব্যাটারি প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির হিসেব মতে সারাদেশে এমন অবৈধ ভাট্টির সংখ্যা পাঁচশরও বেশি।
ডেমরার ধার্মিক পাড়া এলাকার মূল রাস্তার পাশেই চোখে পড়ে দুটি অবৈধ সীসা গলানোর ভাট্টি। জলমগ্ন এই নিচু এলাকার আরেক পাশে আছে আরও দুটি। জানা গেলো, সবগুলোরই মালিক হারুন অর রশিদ। তার সঙ্গে রয়েছেন আরও কয়েকজন। তবে তারা কখনও প্রকাশ্যে আসে না।
কে এই হারুন অর রশিদ?

হারুন অর রশিদ গ্রিন লাইন পরিবহনে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। সেখানে বসেই তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী থেকে শুরু করে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এই কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশ্নের এক প্রশ্নে হারুন সীসার ব্যবসাকে তার ট্রেড বিসনেস বলেও পরক্ষণেই আবার তা অস্বীকার করেন।
এদিকে সরেজমিনে ভাট্টি এলাকায় একাত্তরের উপস্থিতি টের পেয়ে লাল রঙয়ের একটি প্রাইভেট কারে দ্রুত সটকে পড়েন হারুন। পরে গাড়িটির নম্বর নিয়ে বিআরটিতে যোগাযোগ করা হলে জানা যায় গাড়িটির মালিকও তিনি।

হারুন অর রশিদ ছাড়াও অবৈধ সীসা কারবারে জড়িত আরও যে কয়টি নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- গাইবান্ধার মানজু সরকার, মো. ফারুক, মো. মোস্তফা, মো. মান্নান, মো. শাহজাহান,ধামরাইয়ের আসাদুল, কেরানীগঞ্জের আমিনুল, সাভারের মঞ্জু ও কুমিল্লার মজিদ ও মিলন।
আরও পড়ুন: ইভ্যালির লাপাত্তা ৩৩৯ কোটি টাকার খোঁজে দুদক
ব্যাটারি প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মুনোয়ার মিজবাহ মইন বলেন, অবৈধ ভাট্টিগুলো থেকে এই সীসা দেশের আনাচে কানাচে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্যাটারি তৈরির কারখানায় যাচ্ছে। আর দেশের ব্যাটারির বাজারে ৮০ ভাগ জায়গাই দখল করে আছে অবৈধ ব্যাটারি।
একাত্তর/এসি
