পাকিস্তানের জনসংখ্যার মোটামুটি সবাই মুসলিম। আর, দেশটির মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশেরও কম হিন্দু জনগোষ্ঠী। হিন্দুদের বিরুদ্ধে সেখানকার সমাজের ধারণাও প্রায় বদ্ধমূল। তাই, সেখানকার রাজনীতিতেও হিন্দুদের অংশগ্রহণ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সময়ের পরিক্রমায় হাওয়া বদল হচ্ছে।
পাকিস্তানের আগামী জাতীয় নির্বাচনে আবারও দেখা যাবে এক হিন্দু প্রার্থীকে। আট ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন হিন্দু নারী সাভেরা প্রকাশ। সেখানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বুনের জেলার পিকে-২৫ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
সে সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় যোগ করলেন সাভেরা। তিনিই হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের দ্বিতীয় কোন হিন্দু নারী, যিনি সংসদ নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। ফলে তাকে নিয়ে দেশটিতে শুরু হয়েছে আলোচনা। বলা যায় পাক-রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে সাভেরা।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর দল, পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রার্থী হয়েছেন তিনি। পেশায় চিকিৎসক সাভেরা প্রকাশ খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বুনের জেলার বাসিন্দা। তার বাবা ওম প্রকাশও অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক এবং পিপিপি’র সক্রিয় সদস্য।

৩৫ বছরের সাভেরা প্রকাশ জানান, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। কলেজে পড়ার সময় থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২২ সালে আবতাবাদ ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করার পরই সাভেরা পিপিপি’র বুনের জেলার নারী শাখার সাধারণ সম্পাদক হন।
রাজনীতিতে পা রেখেই সাভেরা নারী উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার হন। ভোটে জয়ী হলে নারী অধিকার রক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ জোর দেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তিনি হিন্দু হলেও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে সাভেরা প্রকাশের।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম কোনো হিন্দু নারী হিসাবে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী কৃষ্ণা কুমারী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি ( পিপিপি) নির্বাচনে কৃষ্ণা কুমারীকে প্রার্থী করেছিলো। তবে তিনি নির্বাচনে জিততে পারেননি।
পাকিস্তানে এর আগে বেশ ক’জন হিন্দু দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছিলেন৷ স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম আইনমন্ত্রী ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল৷ পরে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হন রানা ভগবান দাস৷ এছাড়া আরো অনেকে হিন্দু পাকিস্তানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালন করেছেন।
লল্ডনের সম্পত্তি ফেরত পেলেন প্রায়ত সৌদি বাদশাহর স্ত্রী