অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে যুদ্ধরত পাঁচটি ব্রিগেড প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। একটি ব্রিগেডে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার সেনা থাকে। সে হিসেবে গাজা থেকে ১৫ থেকে ২৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে তেল আবিব।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওত আহরোনোথের বরাতে আল মায়াদিন ও পার্সটুডে জানিয়েছে, ইসরাইলের অর্থনীতিকে ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করতে সেনা প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাগারি বলেন, এই সপ্তাহে কিছু সেনা তাদের পরিবার এবং তাদের পুরাতন পেশায় ফিরে যাবে। এটি ইসরাইলের অর্থনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য স্বস্তির দিক হবে।
গাজা উপত্যকার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে তাদের লক্ষ্য ব্যাপকভাবে অর্জিত হয়েছে দাবি করে ইসরাইল বলছে, এ কারণে সেখানে আর সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই।
এর আগে গতমাসে ইসরাইল গাজা থেকে তাদের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও দুর্ধর্ষ গোলানি ব্রিগেড প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিল। গাজা থেকে বিপুল সংখ্যক সেনা প্রত্যাহারের এই ঘটনাকে ইসরাইলি বাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা প্যালেস্টাইন ক্রনিক দাবি করেছে, এই যুদ্ধে ইসরাইলের পরাজয়ের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
গাজায় প্রায় তিন মাস ধরে আগ্রাসন চালানোর পরও ইসরাইলের অর্জন শূন্য। ইসরাইলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু সেনা। ধকল সামলাতেই এ সিদ্ধান্ত ইসরাইলের।
এর আগে অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে ফিলিস্তিনি শিশুরা