উত্তরের পশ্চিম উপকূল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ং দ্বীপের দিকে দুইশ' রাউন্ডেরও বেশি আর্টিলারি শেল বা গোলা ছুঁড়েছে উত্তর কোরিয়া। এ নিয়ে প্রতিবেশি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাতে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ইয়নপিয়ং দ্বীপের দিকে গোলা ছোঁড়ার পররই দক্ষিণ কোরিয়া বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে নির্দেশ দেয় সিউল।
এ ঘটনাকে ‘উসকানিমূলক কাজ’ বলে অভিহিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
তবে উত্তর কোরিয়ার দাবি, আর্টিলারি শেল নিক্ষেপের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বীপটি কোনো ঝুঁকিতে পড়েনি।
এর আগে, ২০১০ সালে প্রায় একই ধরনের গোলার আঘাতে ইয়েনপিয়ং দ্বীপে অন্তত চারজন নিহত হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে আর্টিলারি শেলগুলো নিক্ষেপ করে কিম প্রশাসন। তবে সেগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ বলেন, এতে আমাদের জনগণ বা সামরিক বাহিনীর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে এ ধরনের কার্যক্রম কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ এবং সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন তার দেশের সামরিক, যুদ্ধাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিভাগকে যুদ্ধের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেয়ার কয়েকদিনের মাথায় শেল নিক্ষেপের এ ঘটনা ঘটলো।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিন ওন-সিক শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই শত্রুকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে যাতে তারা আরেকটি উসকানি দেওয়ার সাহস না করে।
এর আগে গেলো ডিসেম্বরে কিম জং উন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ‘উসকানি দিলে’ পিয়ংইয়ং পারমাণবিক হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না।
সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে ২০১৮ সালের একটি সামরিক চুক্তি সই করেছিল দুই কোরিয়া। ওই চুক্তিতে বলা হয়, দুই কোরিয়াকে তাদের সীমান্তে স্থাপিত নো-ফ্লাই এবং বাফার জোনে লাইভ-ফায়ার অনুশীলন এবং এরিয়াল নজরদারি বন্ধ করতে হবে। তবে নভেম্বরে উত্তর কোরিয়া প্রথম সামরিক গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলে দুই কোরিয়ার মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এতে এই সামরিক চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
ক্রিমিয়ায় হামলা, ইউক্রেনের ৩৬ ড্রোন ভূপাতিত