ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের বিমান হামলা চালানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব। এ হামলায় নিহত হয়েছে পাঁচ জন এবং আহত হয়েছে আরও ছয় জন। রাশিয়া ছাড়াও সব মুসলিম দেশের নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াতে ইয়েমেনে পশ্চিমারা এ বিমান হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে এ হামলা চালায়।
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে জাখারোভা লেখেন, ওয়াশিংটন এবং লন্ডন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে দেখিয়েছে নিজেদের স্বার্থে কতটুকু ধ্বংসাত্মক কাজ করতে পারে। ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনের অবজ্ঞার আরেকটি উদাহরণ।
পরে রাজধানী মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের এই দায়িত্বহীন পদক্ষেপকে কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। ইয়েমেনে শান্তি স্থাপনের জন্য গত কয়েক বছর ধরে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। লোহিত সাগরে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে তা মুখ থুবড়ে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত-সহিংসতা উসকে দিতে পারে।

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হুতিদের হামলার জবাব দিতে শুক্রবার ইয়েমেনে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায় মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনাবাহিনী। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
হামলার নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং গাজার অবরুদ্ধ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী শাসকের যুদ্ধাপরাধের জন্য গত ১০০ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পূর্ণ সমর্থন বাড়ানোর প্রয়াসে এই হামলা হচ্ছে। এই হামলাগুলো ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
অন্যদিকে ইয়েমেন হামলা বন্ধের আহবান জানিয়ে ষৌদি আরব বলেছে, রিয়াদ অত্যান্ত গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইঙ্গ-মার্কিন যুগলকে আরও সংযম দেখানোর আহবান জানিয়ে, ইয়েমেনে আর হামলা না করতে বলেছে সৌদি সরকার। রিয়াদ লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বের উপর জোর দেয়, কারণ এতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা একটি আন্তর্জাতিক দাবি।
হুতিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সামরিক হামলা চালানোর নিন্দা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরোদোয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য লোহিত সাগরকে রক্তের সাগরে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এসব কাজ বলপ্রয়োগের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার, যা ইসারাইল গাজাতে করছে।

আর জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেছেন, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি এবং দায়মুক্তির সাথে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জন্য দায়ী। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
ইরান ও হুতিদের মিত্র লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলেছে, ইঙ্গো-মার্কিন আগ্রাসন নিশ্চিত করে যে ওয়াশিংটন ইসরাইলের সাথে পূর্ণ অংশীদারিত্বে রয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে হামাস বলেছে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর তাদের হামলার প্রভাবের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকার দায়ভার বহন করবে।
গাজা-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি গ্রুপ ইসলামিক জিহাদ বলেছে, এই উত্তেজনা নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন প্রশাসন গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার যুদ্ধ চালাচ্ছে। আমরা আরব ও ইসলামিক জাতির জনগণকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন প্রত্যাখ্যান করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। গাজা ও এ অঞ্চলে ইহুদিবাদীদের গণহত্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় অংশীদার।
লোহিত সাগরে সবচেয়ে বড় হামলা চালালো হুতিরা