জাপানের কিয়োটো অ্যানিমেশন স্টুডিওতে চার বছর আগে আগুন দিয়ে ৩৬ জনকে হত্যার অভিযোগে অগ্নিসংযোগকারী শিনজি আওবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদলত।
জাপানের সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, কিয়োটো জেলা আদালতে গত বৃহস্পতিবার ২০১৯ সালের ওই ঘটনার দায়ে ৪৫ বছর বয়সী শিনজি আওবাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
গত দুই দশকের মধ্যে জাপানের সবচেয়ে ওই হত্যার ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। ২০১৯ সালে তদন্তে পুলিশ জানিয়েছিলো, আগুনের সময় তিনতলা ভবনের ভেতরে অনেক লোক কাজ করছিলো এবং আগুনটি এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কেউ সরে পড়তে পারেনি।
ওই ঘটনায় নিহতদের সবাই স্টুডিওর কর্মচারী ছিলো। কমপক্ষে ৩২ জন আগুনে দগ্ধ হয়ে আহত হন।
পুলিশ সে সময় আরও জানান, শিনজি আওবার আগুন দেয়ার মূল কারণ, তার ধারণা কিয়োটো অ্যানিমেশন স্টুডিওর তার কাজ চুরি করেছে। তিনি স্টুডিওতে আগুন লাগানোর জন্য পেট্রোল ব্যবহার করেছিলেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এই হামলার বিচার শুরু হয়। শিনজি আওবাকে হামলার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে তার আইনজীবীরা ‘মানসিক অক্ষমতার’ কারণ দেখিয়ে তাকে দায়ী না করার আবেদন জানায়।
তবে প্রসিকিউটররা মৃত্যুদণ্ডের জন্য আবেদন করে জানিয়েছিলেন, আওবা আগুন দেওয়ার সময় সক্ষম ছিলেন। যদিও ওই সময় আওবা বলেছিলেন, তিনি ভাবেননি এত লোক মারা যাবে।
আওবার বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই সময়ে আমি অনুভব করেছি আমি যা করেছি তা করা ছাড়া আমার কোনো বিকল্প ছিলো না।
আওবা নিজেও ওই ঘটনায় দগ্ধ হন। তার শরীরের ৯০ শতাংশেরও বেশি পুড়ে গিয়েছিলো। সুস্থ হওয়ার পরই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিচারক কেইসুকে মাসুদা বলেন, অপরাধের সময় আওবা মানসিকভাবে অক্ষম ছিলেন না বা খারাপ অবস্থায় ছিলেন না। আওবা যা করেছেন তার জন্য তিনি দায়ী।
বিচারক মাসুদা রায় ঘোষণার আগে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘ যুক্তি পড়ে শোনান।
জাপানে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটে অস্থির বিশ্ববাজার