দীর্ঘ কয়েক দশকের অর্থনৈতিক অবরোধ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে অবশেষে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক তালিকার কলঙ্ক থেকে মুক্ত হলো সিরিয়া। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে এই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে এবং একই সাথে দেশটির ওপর আরোপিত প্রধান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগও স্বস্তি এনে দিয়েছে। সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সরকারের জন্য এই পদক্ষেপকে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা মঙ্গলবার সকালে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে এটিকে একটি নতুন যুগের সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ সিরিয়া তার অতীতের এক কালো দাগ ও যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় মুছে ফেলে উন্নয়ন, সংস্কার এবং নতুন করে দেশ গড়ার পথে যাত্রা শুরু করল। তিনি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সিরিয়ার পাশে থাকা মিত্র দেশগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ও এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এটিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি নতুন সিরীয় সরকারের প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে। অর্থ মন্ত্রী মোহাম্মদ বারনিহ বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিরিয়ার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার সাথে পুনরায় যুক্ত হওয়ার এবং নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি আকর্ষণ করার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বার উন্মোচিত হলো।
২০২৪ সালে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসক বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই ওয়াশিংটন ও দামেস্কের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা পূর্বে হায়াত তাহরীর আল-শাম, যা আগে আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল, সেই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন এবং তারা আসাদ উৎখাতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখন নুসরা ফ্রন্টকেও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, এই পদক্ষেপ সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য সমৃদ্ধির পথ সুগম করবে। এটি সিরিয়ার বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের প্রধান বাধাগুলো দূর করবে এবং গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনর্সংযুক্তি নিশ্চিত করবে।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার অর্থনীতি ও পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর জন্য যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্নির্মাণে অংশ নেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হলো।
তথ্যসূত্র: এএফপি
সীমান্ত বিরোধ নিয়ে চীন-ভারত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক
টেকটনিক নড়াচড়ায় বঙ্গোপসাগরে বাড়ছে ভূকম্পনের ঝুঁকি