মিয়ানমারের বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বর্ডার গার্ড পুলিশ-বিজিপি) আরও ৭ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ নিয়ে মোট ১১৩ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে এলো।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদেরকে নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে বলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি জানিয়েছে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজিপির ১০৬ জন সেনা পালিয়ে আসার তথ্য জানায় বিজিবি।
মিয়ানমার ইস্যুতে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী ও বিজিবিকে (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ওই ঘটনাটি বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় চলমান অস্থিরতার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে। বিজিবি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য বাড়ির ভেতরে থাকতে বা সাবধানে চলাচল করতে বলেছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের অন্য প্রান্ত থেকে পাওয়া খবরে বলা হয়েছে যে সেনা হেলিকপ্টার থেকে বিদ্রোহীদের ওপর গুলিবর্ষণের কারণে ব্যাপক হতাহত হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে এবং রোববার মায়ানমারের সীমান্তের দিক থেকে আসা বন্দুকযুদ্ধের শব্দ সীমান্তের গ্রামের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করে তোলে।
দেশটির সীমান্তবর্তী রাখাইন অঞ্চলে সক্রিয় বিদ্রোহী আরাকান আর্মির যোদ্ধাদের ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবরে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে তার সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা নজরদারির নির্দেশ জারি করেছে। মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের ত্রি-বিন্দু থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ২৭১.০ কিলোমিটার (১৬৮.৪ মাইল) সীমান্ত রয়েছে।
বিজিপি সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার যোগাযোগ করেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিজিবিকে ‘ধৈর্য ধরার নির্দেশ’ প্রধানমন্ত্রীর
মিয়ানমার জান্তার ১০৬ সীমান্তরক্ষী প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে