অনেক ঢাক ঢোল পিটিয়ে চালু হওয়া ঢাকা নগর পরিবহন এখন লোকাল বাস সার্ভিসে রূপ নিয়েছে। নির্ধারিত স্পট থেকে যাত্রী ওঠানামা, নির্ধারিত ভাড়া ও উন্নত যাত্রী সেবার যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো; তার কিছুই রক্ষা করতে পারেনি নগর পরিবহন।
তিন রুটের একটিতে নগর পরিবহনের আওতায় চলা বেসরকারি বাসগুলো এরিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। অল্পকিছু বিআরটিসি বাস দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে এই পরিবহন সেবা।
রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাসরুট রেশনালাইজেশনের আওতায় চালু হয় নগর পরিবহন। প্রাথমিকভাবে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত চালু হয় একটি রুট। পরে আরও দুটি রুটে চলে নগর পরিবহনের বাস।

শুরুটা অবশ্য ভালোই ছিলো। নির্ধারিত জায়গায় যাত্রী ওঠানামা, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া, চমৎকার যাত্রী ছাউনি। কিন্তু সেই পরিবহনের এখন বেহাল দশা। লোকাল বাসের মতো চলছে যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা। উধাও নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস ছাড়ার নিয়মও। যাত্রী ছাউনিগুলোর অবস্থাও বেহাল।
যাত্রীরা জানান, পথের মধ্যেই গাড়ি থামিয়ে যাত্রী নেয় বাসগুলো। আগের মতো শৃঙ্খলা না থাকায় তারাও মাঝে মাঝেই অস্বস্তিতে পড়ছেন।
কথা ছিলো নগর পরিবহন চালু হলে সেই রুটে চলা অন্য বাসগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এটিও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে যাত্রী পেতে পথে পথে প্রতিযোগিতায় নামছে নগর পরিবহন।

নগর পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ মিনিট পরপর বাস চালানোর কারণে তেমন যাত্রী পাওয়া যায়না। একই রুটে চলা অন্য বাসগুলোর সাথে তাই বাধ্য হয়েই প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাসের সংখ্যাও আগের চেয়ে কমেছে। কাঁচপুর থেকে ঘাটারচর রুটে ৫০টির বদলে এখন বাস চলছে মাত্র ৩০টি। তিনটি রুটের একটি থেকে নিজেদের বাস সরিয়ে নিয়েছে বেসরকারি কোম্পানি। এখন বিআরটিসি বাস দিয়ে কোনোমতে টিকে আছে এই সার্ভিস।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যর্থতার কারণেই কার্যকর এই পদ্ধতিটি মুখ থুবড়ে পড়ছে।

বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান মনে করেন, চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ায় এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে।
দুই নগর প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধান, দফায় দফায় বৈঠক, বড় অংকের বিনিয়োগ; এতো কিছুর পর বাসরুট রেশনাইলাইজেশন শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় কিনা; সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু হয় ঢাকা নগর পরিবহনের। পরিকল্পনা ছিল ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ রাজধানীকে একটি কোম্পানির আওতায় আনা। রুট র্যাশেনালাইজেশনের অধীনে তখন তিন রুটে চলে নগর পরিবহন।
শুরুতেই নানামুখী সংকটে ঢাকা নগর পরিবহন
টিকিট কেটে নগর পরিবহনে চড়লেন ঢাকার দুই মেয়র