নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সাত বছরের শিশু আল নাহিয়ানের খতনা করাতে গিয়ে অতিরিক্ত কেটে ফেলা ও রক্তক্ষরণের ঘটনায় দুই জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মোহাম্মদ সেলিম জানান, ওইদিন দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দেকে তাৎক্ষণিক সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শাস্তিমূলক বদলি এবং শিক্ষানবিশ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সৌরভ ভৌমিকের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আলমগীর হোসেন বাদল জানান, বুধবার সকাল ১১টার দিকে ছেলেকে খতনা করাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তিনি। এ সময় তিনি চিকিৎকের খোঁজ করলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি তিনজন চিকিৎসক আসবেন বলে শিশুটিকে তার কাছ থেকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি আবারও চিকিৎকের খোঁজ করলে তারা নিজেদেরকে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দাবি করে। ওইদিন সকালে তারা আরও দুই শিশুর খতনা করেছেন বলে শিশুটির বাবাকে আশ্বস্ত করে সেখান থেকে বের করে দেন। এক পর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে তিনি সেখানে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ দেখলে তারা দ্রুত শিশুটিকে বেডে রেখে তিনজন পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেছেন শিশুটির বাবা। নাহিয়ান বসুরহাট পৌরসভার চাইল্ড কেয়ার স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
ওই ঘটনায় মেডিকেল অফিসার লায়লা সাবরিনা শাহরিন ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আহছান উল্যাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদেরকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. যোবায়েরকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্য হলেন- মেডিকেল অফিসার শাহাদাত হোসেন। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ঘটনার সময় যে তিন জন ডিউটিতে ছিলেন- মেডিকেল অফিসার লায়লা সাবরিনা শাহরিন, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দে এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে শোকজ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আর শিক্ষানবিশ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সৌরভ ভৌমিক যেহেতু তাদের কেউ না, তাই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা.মো.মহিউদ্দিন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শিশুটি ও তার বাবাসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছেন।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার।
একাত্তরকে তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পর স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো.মহিউদ্দিন এবং আমি নিজে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে যাই। এ সময় তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শিশুও তার বাবাসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে অভিযোগর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েঝেছ।
তিনি বলেন, শিশুটি এখন সুস্থ আছে। খতনার সময় তার একটু বেশি রক্তপাত হয়। যা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এতে শিশুটির স্বজনরা ঘাবড়ে যান। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিশুটির খতনা করার সময় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দে এবং তার সহকারী হিসেবে শিক্ষানবিশ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সৌরভ ভৌমিক ছিলো। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় শিক্ষানবিশ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সৌরভ ভৌমিকের সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দে এর দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারো সম্পৃক্তা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খতনা করাতে গিয়ে রাজধানীতে আরেক শিশুর মৃত্যু