ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। গেল দুই বছরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে টানা সম্মুখযুদ্ধে লড়ছে ইউক্রেন। শুরুতে অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধ গড়ে তুললেও যুদ্ধের তৃতীয় বছরে এসে অনেকটা ধীর হয়েছে ইউক্রেনীয় দর্প।
এই সময়ের মধ্যে ইউক্রেনকে শুধু নিজেদের বহু ভূখণ্ডই হারাতে হয়নি, হারাতে হয়েছে বহু সেনা সদস্য আর বেসামরিক মানুষের প্রাণ। ধ্বংস হয়েছে বহু অবকাঠামো। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে বহু নাগরিক। তার বিপরীতে কিছু প্রতিরোধ যুদ্ধ আর কিছু রুশ সমরযান ধ্বংস ছাড়া তেমনই কোন অর্জন নেই কিয়েভের।

এম পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, এই যুদ্ধ করত দিন চলবে, তারচেয়েও অনেক বড় প্রশ্ন কতে দিন যুদ্ধ চালাতে পারবে ইউক্রেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আক্রমণ শুরুর পর দুই বছর পার হওয়া যুদ্ধের প্রথমদিকের চেয়ে ইউক্রেনকে এখন বেশ দুর্বল দেখাচ্ছে।
টানা দুই বছর ধরে লড়াইয়ে ইউক্রেনের অনেক ছোট বড় শহর, গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের সেনারা। এদিকে পশ্চিমা সহায়তা কমে আসায় অস্ত্র সংকটেও পড়েছে তারা। এরই মধ্যে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলা বারুদ তাদের ওপর বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়ছে।

সেই সঙ্গে বছরের শুরুতেই পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর আভদিভকা দখল করে ইউক্রেনের ভেতর দিকে আরও বেশ কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে গেছে রাশিয়া। যেটাকে একটা বড় বিজয় হিসেবে দেখে রাশিয়া। কারণ কৌশলগতভাবে আভদিভকা শহরটি আরও ভেতরে অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।
বর্তমানে ইউক্রেনের ১৮ শতাংশ অঞ্চল রাশিয়ার শক্তির নিয়ন্ত্রণে, যার মধ্যে ২০১৪ সালের মার্চে দখল করা ত্রিমিয়া এবং দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের বিরাট অংশও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে আরও দুই বা তিন বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে রাশিয়া, হয়ত আরও বেশি সময়ও পারবে।

এদিকে, গত বছর জুনে শুরু করা পাল্টা আক্রমণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থতার পর ইউক্রেন এখন অনেক বেশি রক্ষণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে। একই সময়ে তারা সেনা ঘাটতিতে পড়েছে এবং পশ্চিমাদের দেয়া সহযোগিতার প্রবাহও কমে আসছে ধীরে ধীরে। সব মিলিয়ে সঙ্গীন অবস্থাতেই রয়েছেন জেলেনস্কি।
রাশিয়ার কৌশলগত কারণে, ইউক্রেনের বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ শ্লথ হয়ে এসেছে। আপাতভাবে মনে হচ্ছে, রাশিয়া এমন যুদ্ধকৌশল বেছে নিয়েছে যে প্রতি মিটার ভূখণ্ডের জন্য ইউক্রেনকে মূল্য চোকাতে হবে। রুশ বাহিনীর এমন কৌশলে কার্যত সফল হওয়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।
রুশ সেনারা আর কিছু পারুক না পারুক, তারা এখনও ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রাকে শ্লথ করে দিতে সক্ষম। সুরক্ষিত আশ্রয়স্থলে নিরাপদে অবস্থান, একাধিক নজরদারি ড্রোনের ব্যবহারের কারণে রুশ বাহিনী এমন একটা জায়গায় আছে, যা তাদের ওপর ইউক্রেনের বাহিনীর আকস্মিক হামলা ঠেকিয়ে দিতে পারে।

দ্য রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট নামের আরেকটি থিংক ট্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে ইউক্রেনে জয় অর্জনের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। কবে অভিযানের মান উন্নত করতে ব্যর্থ হলো দু’বছর পর কিয়েভকে আত্মসমর্থনে বাধ্য করতে হিমশিম খেতে হবে রুশ বাহিনীকে।
দীর্ঘ যুদ্ধে আতঙ্ক ভর করেছে ইউক্রেনীয়দের মনে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের দানবীয় ক্ষতি