সামনে বিয়ে ডেভিড মিলারের, ব্যস্ততার কমতি নেই তাই। তার ফাঁকেই প্রোটিয়া হার্ড হিটার হাজির হয়েছেন বিপিএলের প্লে-অফ খেলতে। বিয়ের ব্যস্ততায় দল প্লে-অফে উঠেছে কিনা সেই খবরটাই রাখতে পেরেছেন কেবল। এবারে টার্গেট, ফরচুন বরিশালকে চ্যাম্পিয়ন করা। কিলার মিলার মনে করিয়ে দিলেন, পা ফসকানোর সুযোগ নেই একদম।
সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার- সকালেই নেমেছেন ঢাকায়, সোজা হাজির মিরপুরের একাডেমি গ্রাউন্ডে ফরচুন বরিশালের প্র্যাকটিস সেশনে। তবে চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ একেবারেই নেই ডেভিড মিলারের। বরং ছিলেন একদম চিল মুডে। টিম মেটদের টোটকা দিলেন, সফট ড্রিঙ্কস আসলেই শরীরে কতটা শক্তি যোগায়। কিলার মিলার যেন পুরো দলটার ভেতরেই এনে দিলেন অন্যরকম এক আবহ।
মিলারের চিল থাকার আরেকটা কারণ অবশ্য আছে, সামনেই বিয়ে, সেটা নিয়েই দারুণ এক্সাইটেড। তবে সেটা নিয়েই ব্যস্ত থাকায় বিপিএলে নিজের দল নিয়ে তেমন লেখাপড়ার সুযোগ মেলেনি, অবশ্য পারিবারিক ব্যস্ততার ফাঁকে চেষ্টা করেছেন যতোটা খোঁজ-খবর রাখা যায়।
ডেভিড মিলার এ বিষয়ে বলেন, গত কয়েকদিন কোনো খেলা দেখিনি। বিরতিতে ছিলাম। সামনে আমার বিয়ে। তা নিয়ে অনেক কাজ করতে হচ্ছে। তবে আমি ক্রিকইনফোতে চোখ রাখছিলাম, পয়েন্ট টেবিলে কোথায় আছি প্লে-অফে উঠেছি কি না এসব খোঁজখবর রাখছিলাম। তবে টিভিতে খেলা দেখা হয়নি।
দল নিয়ে তেমন ধারণা না থাকলেও ঢাকায় নেমেই অবস্থা বুঝে নেয়ার ষোলো আনা চেষ্টা করেছেন মিলার। বরিশালের ক্যাপ্টেন তামিম ইকবালের সাথে ছোটখাটো মিটিংও সেরেছেন, বোঝার চেষ্টা করেছেন, এই প্রোটিয়া হার্ড হিটারের কাছে কী চায় তার দল।
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে এসে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে বরিশাল। খেলতে হবে এলিমিনেটর রাউন্ড, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সাথে সেই ম্যাচে পা ফসকালেই মেরে কেটে এবারের বিপিএলে ওই একটা ম্যাচই খেলা হবে মিলারের। সেটা মাথায় রেখেই দলকে যেকোনো মূল্যে জেতাতে চান, আপাতত দলকে পরের প্রতিটা ম্যাচ জেতানো ছাড়া গতি নাই। টিমমেটদের সাথে যতো দ্রুত সম্ভব বোঝাপড়াটা তাই বাড়িয়ে নিচ্ছেন তাই।
তবে বাকিদের ভিড়ে পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনের সাথে তার বোঝাপড়াটা নজর কেড়েছে বেশি। দু’জনে মিলে ফিরে গেছেন ২০১৭ সালে। সেবার এক ওভারে পাঁচ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন মিলার। আর এক ছক্কার জন্য ছুঁতে পারেননি হার্শাল গিবস আর যুবরাজ সিংয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড।
ডেভিড মিলারের ভাষায়, খুব ভালো খেলে কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিতে হবে। আমি দলে যতোটা সম্ভব অবদান রাখতে চাই। আমি যেন তরুণদের থেকে শিখতে পারি, তারাও যেন আমার থেকে শিখতে পারে। ছেলেরা ভালো খেলছে, আমিও আমার ভূমিকা রাখতে চাই।
এলিমিনেটর রাউন্ডে তামিম-মিলারদের সামনে এবারের আসরের ডার্ক হর্স চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তাদের ডেরায় বড় তারকার ঘাটতি আছে বটে, তবে নিজেদের দিনে যে কাউকেই যে কুপোকাত করতে পারে চাটগার দলটা, বরিশালকে তাই সতর্ক থাকতে হচ্ছে একশতে একশ’। আর মিলারের সামনে আপাতত মিরপুরের কন্ডিশনে মানিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বকাপে ইয়াং টাইগাররা কেমন খেলবে