বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ বলের ছক্কায় রংপুর রাইডার্সকে তিন উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে পৌঁছে গেছে সিলেট টাইটান্স। আর এই হারের মাধ্যমে আসর থেকে বিদায় নিল রংপুর।
হারলেই বিদায়- এমন সমীকরণের ম্যাচে মিরপুরে লড়াই হলো সেয়ানে সেয়ানে। কম পুঁজি নিয়েও রংপুর রাইডার্স যেভাবে লড়াই করেছে, তাতে ম্যাচটি এবারের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চকর ম্যাচে রূপ নেয়।
তবে সব নাটকীয়তা মাটি করে বিপিএল অভিষেকেই নায়ক বনে গেলেন ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ রান, ফাহিম আশরাফকে ডিপ এক্সট্রা কাভার দিয়ে সীমানা ছাড়া করে সিলেটকে উল্লাসে মাতান তিনি।
১১২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মোস্তাফিজের বলে তৌফিক তুষারকে হারিয়ে চাপে পড়ে সিলেট। দ্বিতীয় উইকেটে আরিফুল ইসলাম (১৭) ও পারভেজ ইমন (১৮) ৩৬ রান যোগ করলেও দ্রুতই তারা ফিরে যান। আলিস আল ইসলামের ঘূর্ণিতে ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা সিলেটকে পথে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ ও স্যাম বিলিংস। এই জুটি ৫০ রান যোগ করে জয়ের ভিত গড়ে দেন।
শেষ দুই ওভারে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হৃদয়কে ক্যাচ দেন বিলিংস। সেই ওভারে মাত্র ৬ রান আসায় শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৯ রানের।
ফাহিম আশরাফের করা শেষ ওভারের প্রথম ৫ বলে মাত্র ৩ রান দিয়ে মঈন আলীর উইকেট তুলে নেয় রংপুর। কিন্তু স্ট্রাইক পেয়ে শেষ বলে অসাধ্য সাধন করেন ক্রিস ওকস। ছক্কাটি হওয়ার সাথে সাথেই সিলেটের ডাগআউটে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে রংপুর রাইডার্স। ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া রংপুরকে টেনে তোলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার ৩৩ রানের (২৬ বল) সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে তারা।
সিলেটের হয়ে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। এছাড়া ক্রিস ওকস ও নাসুম আহমেদ দুটি করে উইকেট নেন।
রংপুর রাইডার্স: ১১১/৯, ২০ ওভার (মাহমুদউল্লাহ ৩৩, খালেদ ৪/১৪)
সিলেট টাইটান্স: ১১২/৭, ২০ ওভার (বিলিংস ৩২, ওকস ৯*, আলিস ২/১৮)
ফল: সিলেট টাইটানস ৩ উইকেটে জয়ী।
