ভালোবাসা দিবসে জন্ম নিয়েও ভালোবাসা পাননি তিনি। পৃথিবীকে যিনি শিখিয়ে গিয়ে ছিলেন 'পেয়ার কিয়া তো ডারনা কেয়া' তিনিই কেন চোখের সামনে নিজের ভালোবাসার মানুষকে অন্যের হতে দিয়েছিলেন? আর আক্ষেপ নিয়ে বলেছিলেন ‘আমার রাজকুমার তার রাজকন্যা খুঁজে পেয়েছে’। বলছি ভালোবাসার কাছে ব্যক্তিত্বকে বলি না দেয়া সৌন্দর্য্যের সেই দেবী মধূবালার কথা।

তার চাহনেওয়ালা কে ছিলেন না! পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোও খুন হয়েছিলেন তার মায়াবি হাসিতে। তাই তো মধুবালাকে এক নজর দেখতে প্রায়ই ছুটে যেতেন শুটিং স্পটে। দিয়েছিলেন বিয়ের প্রস্তাব! শুধু কি ভুট্টো, এসেছিলেন চীনের প্রধানমন্ত্রী, সৌদির বাদশাহ সহ আরো রথিমহারথীরাও ।
কিন্তু কাউকে পারোয়া করেননি মায়াবী হাসির অনন্য সুন্দরী মধুবালা । কারণ তার মন যে মজে ছিলো ভারতে আরেক প্রখ্যাত অভিনেতা দীলিপ কুমারের প্রেমে। মধুবালা-দিলীপের প্রেমের শুরুটা হয় ‘তারানা’ ছবির সেটে । ভালোই চলছিল তাদের প্রেম কিন্তু হঠাৎ বাধ সাধল তার মধুবালার বাবা ।

মেয়ের ব্যক্তি জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইতেন বলে অভিযোগ ছিল দিলীপ কুমারের। এমন কথাও প্রচলন আছে যে, মধুবালাকে পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতেও বলেছিলেন তিনি। বাবা- প্রেমিকের দ্বন্দে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেনে মধুবালা। বেজেছিলো বিচ্ছেদের সুর।
মধুবালা যখন বুঝতে পেরেছিলেন যে দিলীপ কুমার তাকে বিয়ে করবেন না, তখন তিনি কিশোর কুমারকে বিয়ে করেছিলেন। তার এটা প্রমাণ করার ছিল যে, তিনি যে কোনও পুরুষকে বিয়ে করতে পারেন। কিশোর কুমারে সঙ্গে মধুবালার পরিচয় ছিলো অল্প কিছুদিনের এই অল্পদিনেই তিনি আপন করে নিয়েছিলেন মধুবালাকে। হৃদপিন্ডে ছিদ্র যেনেও বিয়ে করেন তাকে।

যদিও কিশোর কুমারের জীবনী 'কিশোর কুমার দ্য আল্টিমেট বায়োগ্রাফি'-তে অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য এবং পার্থিব ধর মধুবালার ছোটবোন মধুরকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, ডাক্তার যখন কিশোরকে বললেন যে মধুবালার হাতে খুব বেশি দিন আর নেই, তখন তিনি তাকে কার্টার রোডের ফ্ল্যাটে সরিয়ে দেন।
সেই সঙ্গে একটি চালকসহ গাড়িও দিয়ে দেন তিনি। চার মাসে একবার মধুবালার সঙ্গে দেখা করতেন কিশোর কুমার। এমনকি মধুবালার ফোনও রিসিভ করতেন না গায়ক। তবে কিশোর কুমারের ছেলে অমিত কুমার এর ঠিক বিপরীত বয়ান দিয়েছেন মধুবালা আর তার বাবার সম্পর্ক নিয়ে।

এদিকে দিলীপ কুমার যখন সায়রা বানুকে বিয়ে করতে চলেছিলেন, তখন মধুবালা দিলীপ কুমারের সাথে একটিবার দেখা করতে চান। দেখা হয়েছিলো তাদের। দুর্বল শরীর নিয়ে দিলীপ কুমারকে বলেন, আমার রাজকুমার তার রাজকন্যা খুঁজে পেয়েছে।

ভাঙা প্রেম, অসুখী দাম্পত্য জীবনের বোঝা নিয়ে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে পারি দেন বলিউডের সর্বকালের সেরা ‘সুন্দরী’ মধুবালা। মধুবালার কবরে অবশ্য ফুল দিয়েছিলেন দীলিপ কুমার।

