ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান গণহত্যায় সহযোগিতা করার দায়ে চলতি মাসে জার্মানিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) কাঠগড়ায় তুলেছিলো মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়া। এবার সেই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে আইসিজে।
হেগ-ভিত্তিক আইসিজে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ৮ ও ৯ এপ্রিল এই অভিযোগের ব্যাপারে নিকারাগুয়া ও জার্মানি উভয়ের বক্তব্যের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। খবর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিকারাগুয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো অস্থায়ী রুল জারি করা হবে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য ওই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গাজার সংঘাতে ইসরাইলকে তহবিল যুগিয়ে জার্মানি ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছে নিকারাগুয়া।
এছাড়াও জার্মানির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থাকে (আনরোয়া) অর্থ প্রদান স্থগিত করার বিষয়েও অভিযোগ করেছে মধ্য আমেরিকার দেশটি।
আনরোয়ার কয়েকজন কর্মী গেলো ৭ অক্টোবরের আল-আকসা তুফান অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন- ইসরাইল এমন ভুয়া অভিযোগ তোলার পর জার্মানিসহ বহু পশ্চিমা দেশ এই সংস্থাকে আর্থিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়।
নিকারাগুয়ার দাবি, জরুরি ব্যবস্থা জারি করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যেন জার্মানিকে ইসরাইলে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি আনরোয়াকে অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেয়ার জন্যও যেন জার্মানিকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এর আগে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় আইসিজেতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলো ইসরাইল। গেলো বছরের ২৯ ডিসেম্বর ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ঐ মামলাত প্রাথমিক রায় ঘোষণা হলেও তা এখনও চলমান রয়েছে।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় গণহত্যা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৩১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।
গাজায় চলমান এই গণহত্যায় ইসরাইলকে সরাসরি সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো পশ্চিমা দেশগুলো। অন্যদিকে চীন, রাশিয়া, ইরানের মতো দেশগুলো এ গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
