নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরের আইকনিক ‘ফ্রান্সিস স্কট কি’ সেতুর একটা বড় অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে জাহাজের ধাক্কায় সেতুটি ধসে পড়ে সেটির সব নাবিকই ভারতীয়।
দুর্ঘটনার আগ মুহূর্তে বাল্টিমোর সেতু কর্তৃপক্ষকে আসন্ন বিপদে কথা জানিয়ে বার্তা পাঠানোয় জাহাজটির নাবিকদের প্রশংসা করেছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু, জাহাজটির ক্রুদের নিয়ে একটি কার্টুন চিত্র নিয়ে এখন নেট দুনিয়া তোলপাড়। এই কার্টুনটিকে ‘বর্ণবাদী’ বলে উল্লেখ করেছে অনেকে।
সিঙ্গাপুর-পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ডালি বিদ্যুৎ হারিয়ে গেলো মঙ্গলবার সেতুটির একটি কংক্রিটের পিয়ারে বিধ্বস্ত হয়। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রায় পুরো সেতুটি ভেঙে পড়ে। কি কারণে এই দুর্ঘটনা, সেটি জানতে এরিমধ্যে তদন্ত শুরু করে আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থা।
অন্ধকারে জাহাজের আলো নিভে যাওয়ায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ক্রুরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেতুর সজোরে আঘাত করে ডালি। তবে তার আগে স্থানীয় সময় রাত দেড়টার কিছু আগে তারা একটি ‘সাহায্যের বার্তা’ জারি করে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে যে, একটি সংঘর্ষ হতে চলেছে।
এই ঘটনার জন্য ভারতীয় নাবিকরা সর্ব মহলে প্রশংসিত হলেও, তাদের নিয়ে একটি ব্যাঙ্গ কার্টুন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দুর্ঘটনার একদিন পরে একটি মার্কিন ভিত্তিক ওয়েবকমিক ঘটনা নিয়ে একটি কার্টুন শেয়ার করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার আগে অপ্রস্তুত নাবিকরা দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
খুব দ্রুত এই ব্যঙ্গচিত্রটি ভাইরাল হয়। এখন পর্যন্ত ৪২ লাখ ভিউ হয়েছে। মন্তব্য পড়েছে দুই হাজারের বেশি। বলা হচ্ছে কার্টুনের মাধ্যমে বর্ণবাদী আচরণ ফুটে ওঠার পাশাপাশি জাহাজটির ক্রুদের অবমূল্যায়নও করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের এই কার্টুন ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ করেছে।

কার্টুনটি শেয়ার করে ভারতীয় অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যাল লিখেছেন, ঘটনার সময় সম্ভবত স্থানীয় একজন পাইলট জাহাজটি চালাচ্ছিলেন। যাই হোক না কেন, ক্রুরা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল, যে কারণে হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিলো। মেয়র ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ভারতীয় ক্রুদের ‘হিরো’ বলেছেন।
পূজা সাংওয়ান নামের এক এক্স ব্যবহারকারী একই অনুভূতি জানিয়ে এটা লজ্জাজনক যে লোকে দুঃখজনক ঘটনার জন্য ভারতীয় ক্রুদের উপহাস করছে। এদিকে গভর্নর নিজেই ক্রুদের প্রশংসা করেছেন। প্রায় একই ধরনের মন্তব্যে কার্টুনটির বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন এক্সের ব্যবহারকারীরা।
মার্কিন পরিবহন সচিব পিট বুটিগিয়েগের মতে, বাল্টিমোর হল দেশের বৃহত্তম যানবাহন-হ্যান্ডলিং বন্দর, ফলে সেতু দুর্ঘটনায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে মার্কিন অর্থনীতিতে। বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় একশ’ থেকে দুইশ’ মিলিয়ন ডলারের আয় হতো। সেতু ধসের কারণে পণ্য ওঠা-নামায় জটের তৈরি হয়েছে।
সেতু ধসে ডোবা পিকআপ থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার