যে কোনো খেলাধুলার প্রাণ সমর্থক। ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা আর্চারি; যেখানেই লাল সবুজরা খেলতে নামে গর্জন তোলে প্রবাসীরা। ব্যতিক্রম হয়নি ইরাকের বাগদাদেও। তারা হতে পারতেন একেকজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা; যাদের শ্রমে ঘামে আরও সচল হতো দেশের অর্থনীতি। কিন্তু বৈধতা না থাকায় সঠিক পথে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন না অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ইরাকে ওয়ার্ক পারমিট।
তবে শিগগিরই ইরাকে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল বারী। ভিসার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ইরাক সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে করেছেন একাধিক বৈঠকও। জানান, বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্বেও বৈধতা না থাকায় ইরাকে শ্রমবাজার চলে যাচ্ছে অন্যদেশগুলোর কাছে।

রাষ্ট্রদূত ফজলুল বারী বলেন, ইরাকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিষণ চাহিদা রয়েছে। দেশটির রাস্তাঘাট, ফ্লাই ওভার থেকে শুরু করে আবাসন প্রকল্প, রেস্টুরেন্ট এবং স্বাস্থ্যসেবায় রয়েছে বিশাল শ্রম বাজার। ভিসার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া সেই চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
তিনি বলেন, যেহেতু এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে, সেহেতেু তাদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। যাতে তারা সুন্দর, যৌক্তিক, সামাজিক জীবন এখানে পেতে পারে। দেশটির সরকার প্রবাসীদের আবেদন করার জন্য ৪৫ দিনের সময় দেয়, সেই সুযোগে অনেকে আবেদন করেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরাক এবং বাংলাদেশ উভয়েই বলে থাকি আমরা বন্ধুপ্রতীম দেশ। ইরাক এই অঞ্চলে প্রথম মুসলিম দেশ, যারা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়। এতো কিছুর পরও যদি বাংলাদেশের মানুষে যদি এই দেশে আসতে না পারে তাহলে কীভাবে ধরে নেবো আমরা বন্ধুপ্রতীম দেশ।
বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে যারা এখানে বৈধভাবে ছিল তাদের একটা বড় অংশ আস্তে আসে অবৈধ হয়ে যাচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
শিগগিরই ইরাকে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হবে। বৈধভাবে ইরাকে বসবাসে সুযোগ পাবে বাংলাদেশিরা, যোগ করে রাষ্ট্রদূত।
ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ ইরাকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা দীঘদিনের। ভিসা নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে সেই সম্পর্কটা হবে আরও নিবিড়।
ইরাকের শ্রমবাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ, কিন্তু কেন…