বিশ্ব মেরুকরণে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের পর এবার নাইজারেও রুশ নীতির কাছে ধরা খেলো বাইডেন প্রশাসন। এরইমধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের কার্যক্রম শুরু করেছে ওয়াশিংটন। গেলো কয়েক বছর ধরে ক্রমবর্ধমানভাবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে নাইজার, এমন পরিস্থিতিতে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেলো বছরের জুলাই মাসে সামরিক শাসনের অধীনে থাকা নাইজার থেকে প্রায় এক হাজার সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা শুরু করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দেরিতে হলেও মার্কিন গণমাধ্যমে শুক্রবার এই খবর প্রচার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ট ক্যাম্পবেল এবং নাইজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলি মহামান লামিন জেইন শুক্রবার সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় ওয়াশিংটন তার সেনা প্রত্যাহারের একটি সুশৃঙ্খল এবং দায়িত্বশীল পরিকল্পনা শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর আগে সাহেল অঞ্চলে আল-কায়েদা এবং আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকারকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাইজারে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল। এতে বুরকিনা ফাসো এবং মালিও সম্পৃক্ত ছিলো।
নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনা করতে মার্কিন কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে দেশটিতে সফর করবেন।
তবে কবে থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে সে বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এর আগে নাইজার মার্চে ঘোষণা করেছিল, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সামরিক চুক্তি স্থগিত করেছে এবং তাদের সেনা প্রত্যাহারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাইজার থেকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হচ্ছে কারণ, দেশটির ক্ষমতাসীন সামরিক বাহিনী ও জনগণ উত্তর-ঔপনিবেশিক শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। একইসাথে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে দেশটি।
গেলো বছরের শেষদিকে প্রবল আন্দোলনের মুখে নাইজার থেকে ফরাসি সেনা প্রত্যাহার করে ফ্রান্স। প্যারিসের অভিযোগ, রাশিয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর প্রস্থানের দাবিতে চলতি মাসের শুরুতেও নাইজারের রাজধানীর রাস্তায় নেমে এসেছিল দেশটির জনগণ।
ইরান-ইসরাইলের নীরবতায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আভাস!
ইউক্রেনে সেনা পাঠানো থেকে ন্যাটো মাত্র ‘এক কদম দূরে’: হাঙ্গেরি