ক্রিকেট বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ওপেনারদের একজন সাঈদ আনোয়ার। বিশ্বের বাঘা বাঘা পেসারও তার বিরুদ্ধে বল করতে অস্বস্তিতে ভুগতেন। পেস হোক কিংবা স্পিন- সব ধরনের বলে ছক্কা আর বাউন্ডারি হাঁকাতে এই পাকিস্তানি ব্যাটারের জুড়ি মেলা ভার।
ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকতেই অনেকটা আচমকাই ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন সাঈদ আনোয়ার। বেছে নেন ধর্ম প্রচারে, যোগ দেন তবলীগ জামাতে।
এখন দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ান ইসলামের দাওয়াত নিয়ে। ২০০১ সালে একমাত্র কন্যার মৃত্যুর পর নিজের জীবনের পথ পরিবর্তন করে নেন এই তিনি। ক্রিকেট থেকে ধীরে ধীরে সরে গিয়ে ধর্মপ্রচারে মনোযোগ দেন তিনি। ইসলামের প্রচারক হিসাবে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে আনোয়ারের।
কিন্তু সম্প্রতি কর্মজীবী নারীদের নিয়ে সাঈদ আনোয়ারের এক মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় নেট দুনিয়া। নারীদের নিয়ে তার তির্যক মন্তব্যকে মেনে নিতে পারছেন না অনেকে। ভক্তদের একাংশ সাঈদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার সামাজিক মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কি বলেছিলেন তিনি?
গেলো কয়েক বছরে পাকিস্তানে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনার বেড়ে যাবার জন্য কর্মজীবী নারীদের প্রতি আঙ্গুল তুলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের এই সাবেক অধিনায়ক। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিওতে আনোয়ারকে পাকিস্তানে বিবাহ বিচ্ছেদ বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। সেটিই এখন ভাইরাল হয়ে ঘুরছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন বছরে পাকিস্তানে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ শতাংশ। সাঈন আনোয়ারের দাবি, কর্মজীবী নারীদের জন্য সংসার ভাঙছে। পাকিস্তানের প্রাক্তন ওপেনিং ব্যাটার বলেন, যখন থেকে পাকিস্তানের নারীরা কাজ করতে বাইরে যেতে শুরু করেছেন, তখন থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের সমস্যা বেড়ে গেছে। গত তিন বছরে ৩০ শতাংশ বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়ে যাওয়া উদ্বেগের।
তিনি আরও বলেন, এখনকার স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের বলেন, তুমি যা খুশি করো। আমি নিজে উপার্জন করতে পারি। সংসারও চালাতে পারি। এই কথার পেছনে হয়তো কোনও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। কেউ সঠিক পরামর্শ না পেলে ওই পরিকল্পনাটা ধরতে পারবে না। সমাজকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে।
বিভিন্ন দেশে সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনোয়ার বলেছেন, আমি বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যাই। কিছু দিন আগে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া সফর করেছি। দেখেছি কীভাবে যুবরা সমস্যায় পড়ছে। পরিবারগুলো ভালো নেই। দম্পতিদের মধ্যে অশান্তি লেগেই আছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে নারীদের রোজগার করতে যেতে হচ্ছে। উপার্জনকারী নারীরা নিজেদের ইচ্ছা মতো চলতে চাইছেন।
এই সাবেক মারকুটে ব্যাটসম্যান আরও দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ার একটি শহরের মেয়র এবং নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও নাকি তার কাছে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য কর্মজীবী নারীদেরই দায়ী করেছেন। এমন সব মন্তব্যের কারণে অনেক ভক্তরা সমালোচনার তীব্র বানে বিদ্ধ করছেন সাঈদ আনোয়ারকে।
বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ