ভারতে চলছে দিল্লিবাড়ির লড়াই। চার জুনের অপেক্ষায় গোটা ভারত। কে হচ্ছেন দেশটির দেশের পরবর্তী অভিবাবক? এরিমধ্যে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে বুথ ফেরত বিভিন্ন জরিপের পূর্বাভাস। আর এসব জরিপ থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছে গেরুয়া শিবির। বিজয়বারতা নিয়েই ধ্যান থেকে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
লোকসভা নির্বাচনে দুই মাসের প্রচারে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটকে উৎসাহিত করলেও বুথফেরত জরিপেই সব হিসেব নিকেষ বদলে দিচ্ছে। দেশের গণমাধ্যমগুলোর যতগুলো জরিপ হয়েছে, তাদের কেউই শাসক দল বিজেপির তৃতীয়বার সরকার গঠন নিয়ে কোন সংশয় প্রকাশ করেনি। তবে. বিজেপি তার ‘ম্যাজিক মার্কে’ পৌছাতে পারবে কি-না সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। ফল ঘোষণার শুরুর পর সেটি জানা যাবে।

পাঁচ বছর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একাই পেয়েছিল ৩০৩টি আসন। আর দলটির নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেয়েছিল ৩৫৩টি আসন। এবার মনে করা হচ্ছিল, পালাবদল না হলেও ‘ইন্ডিয়া’ জোট বিজেপিকে যথেষ্ট বেগ দেবে। আগের তুলনায় বিজেপি ও এনডিএর আসনও কমে যাবে। কিন্তু অধিকাংশ সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, এনডিএ এবার আগেরবারের তুলনায় তাদের আসনসংখ্যা বাড়াতে চলেছে, তবে সেটি ৪০০ পার হচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব জরিপেই বিজেপি ও এনডিএ জোটকে ৩৫৯ থেকে ৩৯৫ আসন দিয়েছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোট ১২৫ থেকে ১৬১ আসন। জরিপে বিজেপি শুধু হিন্দি বলয়ে নিজের অবস্থানই ধরেই রাখেনি, ডানা বিস্তার করেছে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু ও কেরালা। দুই রাজ্যেই কখনো একার ক্ষমতায় আসন জেতেনি বিজেপি। জরিপ অনুযায়ী, বিজেপি তামিলনাড়ুতে ১ থেকে ৩টি আসন পেতে পারে, কেরালায়ও পেতে পারে ২-৩টি আসন।

এতে বলা যেতে পারে প্রবলভাবে দক্ষিণমুখী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যে বিজেপি কর্ণাটক ছাড়া দাক্ষিণাত্যে হিন্দি বলয়ের দল বলে পরিচিত ছিলো, এবারের ভোটে তা ঘোচানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। জরিপের ফল অন্তত সেটাই বলছে। কিন্তু বুথফেরত জরিপ মানতে নারাজ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, ইন্ডিয়া জোট ২৯৫ আসনে জয়ী হবে।
শুধু তাই নয়, দিদির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গেও ভালো ফল করতে পারে বিজেপি। রাজ্যে এবার ২৩ থেকে ২৭ আসন জিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিতে চলেছে তারা। একই সাথে ওডিশা, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র প্রদেশ নিয়েও আশাবাদী তারা। জরিপ অনুযায়ী, তিন রাজ্যেই পূর্ণ হচ্ছে বিজেপির আশা। ওডিশায় তারা নিশ্চিতভাবে হতে চলেছে প্রথম দল।

অর্থাৎ এবারের জরিপও বোঝালো, দেশের অধিকাংশ রাজ্যের ভোটার কেন্দ্রে চায় শক্তপোক্ত সরকার। টানা ১০ বছর শাসনের পরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি জনগণের আস্থায় হেলদোল হয়নি। চলতি ভোটে মূল নজর ছিল বিজেপি ৩০০ পার করে কি না এবং এনডিএ গতবারের মতো ৩৫০ আসনের বেশি আসন পায় কি না। অধিকাংশ জরিপ অনুযায়ী, দুটিই হওয়ার সম্ভাবনা। জরিপের শেষ কথা, ৪ জুন ফল গণনা শেষে শেষ হাসি হাসতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদিই। তৃতীয়বার ক্ষমতাসীন হয়ে স্পর্শ করছেন জওহরলাল নেহরুকেও।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের দ্বিগুণ আসন পেতে যাচ্ছে বিজেপি!