ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনার মধ্যে তুমুল আলোচনার কেন্দ্রে আছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দশর ধরে বিজেপি সরকারের সব ধরনের দমন-পীড়নকে উপেক্ষা করে রাহুল গান্ধী এক রাজনীতিবিদ হিসাবে যেভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন, তার ফল পাচ্ছে কংগ্রেস। দলের পাশাপাশি ভোটের লড়াইয়েও দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন এই তরুণ রাজনীতিবিদ।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে তিনি দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং দুটি আসনেই বিশাল ব্যবধানে জিতেছেন। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলিতে ভোটের পার্থক্যে মা সোনিয়া গান্ধীকে ছাপিয়ে গিয়ে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। জিতেছেন চার লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে।
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লোকসভা কেন্দ্র রায়বরেলি৷ উত্তরপ্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় কেন্দ্র চিরকালই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত৷ এখান থেকেই এক সময় লড়তেন ইন্দিরা গান্ধী। পরবর্তীতে ফিরোজ গান্ধী, সোনিয়া গান্ধীর মতো মতো গান্ধী পরিবারের সদস্যেরাও এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

২০টি লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে ১৭টিতেই জয়ী হয়েছে কংগ্রেস। সেই ঐতিহ্যের ধার কমেনি রাহুল গান্ধীর হাতে, বরং বেড়েছে। রেকর্ড ব্যবধানে রায়বরেলি আসন থেকে জয় পেয়েছেন তিনি। লোকসভার এই কেন্দ্র থেকে তিনি জয়ী হলেন প্রায় চার লাখেরও বেশি ভোটে। হারিয়েছেন দীনেশ প্রতাপ সিংকে।
২০১৯ সালে এই দীনেশ প্রতাপ সিংকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭৮ ভোটে হারিয়ে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। রাহুল গান্ধী সেই ব্যবধানকে ছাপিয়ে গড়লেন রেকর্ড। রায়বরেলিতেই নয়, কেরালার কেরালার আসন ওয়েনাডে থেকেও বড় জয় পেয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি জিতেছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি ব্যবধানে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য, এই আসনে রাহুল পেয়েছেন ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (সিপিআই) প্রার্থী অ্যানি রাজা পেয়েছেন ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪২২।
