পর্তুগালে অভিবাসন আইন কঠোর করেছে দেশটির সরকার। এরইমধ্যে আগের আইন বাতিল করেছে দেশটির মধ্য-ডানপন্থি সরকার। নতুন নীতির আওতায় পর্তুগালে অনিয়মিতভাবে আসা বিদেশিদের নিয়মিত হবার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসন প্রত্যাশীর স্বপ্নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পর্তুগালে অভিবাসীদের বড় একটি অংশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিক। তারা মূলত কৃষিকাজ, মৎস্য এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে কাজ করছেন। এরইমধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকার বিপুলসংখ্যক নাগরিক গত এক দশকে পর্তুগালে স্থায়ী হয়েছেন।
দেশটির সরকার বলছে, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে অ-ইউরোপীয় অভিবাসীদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে দশ লাখে দাঁড়িয়েছে। যা মোট দেশটির মোট জনসংখ্যার ১০ ভাগ। এরমধ্যে দক্ষ অভিবাসীর সংখ্যাও অনেক কম।
সোশালিস্ট পার্টির সদস্য রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন, অনেক অযোগ্য লোক, অদক্ষ লোক যারা পর্তুগালের কোনো কাজে আসে না, সে সমস্ত লোক পর্তুগালে এসেছে। তারা বৈধ হওয়ার পরে ফ্যামিলি রিইউনিয়নের যে অপশন আছে, সেখানে তারা স্ত্রী-বাচ্চাকে না এনে বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে আসে। ষাটোর্ধ্ব বাবা-মা এখানে সে কোনো কাজ করতে পারেন না। তারা বরং এখানের স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন সেবাসহ অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, তার কারণে ডানপন্থিরা চিন্তা করেছে, এসব লোক কোনো কাজে আসে না। তাহলে কেন এ আইন রাখা হবে?
এই পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের রাশ টেনে ধরতে চাইছে পর্তুগাল। তাই, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলে আসা পর্তুগালের অভিবাসন প্রক্রিয়ার মুহূর্তেই অবসান ঘটিয়েছে দেশটির সরকার।
মাত্র দুই মাসের ধরে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার বাদ দিয়েছেন আগের অভিবাসন আইন। এরইমধ্যে মন্ত্রীসভার কঠোর অভিবাসন নীতির অনুমোদনও দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মার্সোলো রেবেলো ডি সোসা।
নতুন গেজেটে অভিবাসন প্রবাহ নিয়ে ৪২টি নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে সরকার। প্রকাশিত ডিক্রিতে ২০১৭ সালের অভিবাসন আইনের তিনটি অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে।

ফলে, পর্তুগালে অন্তত এক বছর ধরে কাজ করছেন এবং সামাজিক নিরাপত্তায় অবদান রাখছেন এমন বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীরা আর নিয়মিত হতে পারবেন না।
অভিবাসন কর্মী ও সাংবাদিক ফরিদ আহমদ পাঠওয়ারী বলেন, বাংলাদেশিদের আগমন প্রায় ৯৯ শতাংশ কমে যাবে। এখনকার যে কেউ টুরিস্ট ভিসায় বা অন্য ভিসায় এসে নিয়মিত হতে পারবেন না।
নতুন আইন কার্যকর হলেও অপেক্ষায় থাকা প্রায় চার লাখ অভিবাসীর রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন দ্রুত শেষ করতে চায় পর্তুগাল সরকার।
পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাসেল আহমদ বলেন, বর্তমানে প্রায় চার লাখ পেন্ডিং অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। অর্থাৎ যারা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের কেসগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যাচাই বাছাই করে বৈধ করার প্রক্রিয়া তারা শেষ করবে।
দেশটির সরকার সরাসরি পর্তুগালে বৈধ ভিসা নিয়ে আসা অভিবাসীদের হার বাড়াতে চায়।তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত উল্টো অনিয়মিত অভিবাসীদের হার এবং তাদের দুর্ভোগ বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্তুগালের কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট আমির সোহেল বলে, যারা এখনও স্থায়ী হতে পারেননি তারা কতদিন থাকতে পারবেন সেটা চিন্তার বিষয়।
পর্তুগালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে বৈধ হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী।
ইতালি দূতাবাসে আর কতোদিন আটকে থাকবে পাসপোর্ট?