লো স্কোরিং ম্যাচগুলো প্রায়াই হাই ভোল্টেজের হয়। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ দ্বৈরথের ম্যাচটা হয়তো হলো নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রান করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড করলো ভারত। শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে তারা হারালো ছয় রানে। আগে ব্যাট করে ১১৯ রানে অলআউট হয় ভারত। জবাবে নির্ধারতি ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান করে পাকিস্তান।

এদিকে ভারতের বিপক্ষে হারে শুধু ম্যাচটাই হাত থেকে ফসকে গেলো না পাকিস্তানের। বরং তীব্র হলো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কা। বলা যায়, পাকিস্তানের গলায় বিদায় ঘণ্টা হয়তো বেঁধে দিলো ভারত। এখন পাকিস্তানের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের দিকে।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
ভারতের ব্যাটিংয়ের পর প্রেডিকশনে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হচ্ছিলো ৯৫ শতাংশ এবং ভারতের মাত্র পাঁচ। পাকিস্তান ব্যাট করতে নামার পর পাওয়ার প্লের শেষেও পাকিস্তানের জয়ের পাল্লা ঝুঁকে ছিল ৯২ শতাংশ। তবে এখান থেকেই হয়তো গড়ে গেলো ইতিহাস। পাঁচ থেকে আট শতাংশ জয়ের সম্ভাবনা থেকে রোহিত বাহিনী শতভাগ জয় নিশ্চিত করেছে।
ভারতের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে রিজওয়ানের আউটকেই। ১৪ দশমিক এক ওভারে বুমরাহকে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে ক্লিন বোল্ড হন এই উইকেট কিপার ব্যাটার। স্কোর বোর্ডে তখন চার উইকেটে ৮০ রান। এরপর সাদাব, ইফতেখার, ইমাদরা এদিক-ওদিক ব্যাট চালিয়েও রান তুলতে পারেন নাই।
জয় পর রোহিতের মন্তব্য
ব্যাটিং যে ভালো হয়নি, তা অকপটে স্বীকার করেছেন কাপ্তান রোহিত। তিনি বলেন, আমার মতে প্রথম ১০ ওভার শেষে আমরা ভালো একটা অবস্থানে ছিলাম। আপনি চাইবেন, খেলোয়াড়রা ভালো একটা জুটি গড়ুক। আমরা ১৫-২০ রান কম করেছিলাম, কিন্তু প্রতিটি রান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চোখ ছিল ১৪০ রানের দিকে। কিন্তু বোলাররা ভালো কাজ করেছে। এখানে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা আগের ম্যাচের চেয়ে উইকেটটা তুলনামূলক ভালো ছিল।

জয়ের নায়ক
চার ওভারে মাত্র ১৩ রানে দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া ম্যাচ সেরা হয়েছেন ভারতীয় পেসার জসপ্রীত বুমরাহ।
পাকিস্তানের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন রিজওয়ান (৩১)। এরপর পাঁচ ব্যাটার দুই অঙ্কের স্কোর ছুঁয়ে কেউই কুড়ি অতিক্রম করতে পারেন নাই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করেছেন ইমাদ ওয়াসিম ১৫। অন্য কারো স্কোর উল্লেখ করার মতো নয়।
ভারতে হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন বুহরাহ। এছাড়া হার্দিক পাণ্ডিয়া দুটি এবং হার্সদ্বীপ ও আকসার একটি করে উইকেট নেন।

বাবরের মন্তব্য
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক বাবর বলেন, পাওয়ার প্লে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজে লাগাতে পারেননি।
তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা ছিল স্বাভাবিক খেলা। ব্যাটিংয়ে প্রথম ছয় ওভার কাজে লাগোন। এসব পারলেই আমরা জিততাম। তবে এক উইকেট পড়ার পর প্রথম ছয় ওভারে আমরা যথেষ্ট ভালো ছিলাম না। ১০ ওভারের পর আমরা একই ভুল করে গেছি।
তিনি বলেন, পিচ খারাপ ছিল না। কিন্তু লাগাতার দুই-তিন উইকেট হারানোও আমাদের জন্য কাল হয়েছে।
তবে টানা দুই পরাজয়ের পরও সুপার এইটে ওঠার আশা তিনি ছাড়েননি। বলেন, আমরা সামনের দুই ম্যাচ জিতে সুপার এইটে যেতে চাই।
যদিও গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়া এখন বাবরদের জন্য ভীষণ কঠিন। শুধু নিজেরা বাকি দুই ম্যাচ জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের দিকেও।
পাকিস্তানকে ১২০ রানে লক্ষ্য দিলো ভারত
নিজেদের প্রথম ম্যাচে যাচ্ছেতাই ভাবে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাবর বাহিনী। চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে তারা অল্প পুঁজিতেই বেঁধে রাখতে পেরেছে।
কয়েকবার বৃষ্টির বাগড়া দেয়ার পর শুরু থেকেই ভারতের ব্যাটারদের ওপর ডমিনেট করতে থাকে নাসিম, আমির, হারিছরা।
ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে রিশভ পন্থ ছাড়া আর কেউ উল্লেখযোগ্য স্কোর করতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত রোহিতদের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ১১৯ রান। সিরিজে টিকে থাকতে এই ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের বিকল্প নেই বললেই চলে।
দুর্দান্ত নাসিম-আমির, ধুঁকছে ভারতীয় শিবির
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়েছে টিম ইন্ডিয়া। শুরুতে রোহিত ও কোহলির বিদায়ের পর সেই চাপ খানিকটা সামলেন নেন রিশভ পন্থ ও আকসার প্যাটেল।
কিন্তু পাকিস্তানি পেসারদের নিয়মিত আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলে রোহিত বাহিনী। সাত দশমিক চার ওভারে আকসারকে (২০) ক্লিন বোল্ড করেন নাসিম।
এরপর ১১ দশমিক দুই ওভারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বসেরা ব্যাটার সুরিয়া কুমার যাদবকে (৭) ফেরান হারিস রউফ। তখন থেমে যাওয়ার রানের খাতা ঘোরাচ্ছিলেন বেশ কয়েকবার জীবন পাওয়া রিশভ। এসেই সাজঘরে ফেরেন বামহাতি হার্ড হিটার শিবম দুবে। তিনি শিকার হন নাসিমের।
এরপরের ওভারেই খ্যাপাটে রিশভকে ফেরান আমির। ৩১ বলে চারটি বাউন্ডারিতে তিনি করেন ৪২ রান, যা এখন পর্যন্ত দলের সর্বোচ্চ। ১৪ দশমিক এক ওভারে রিশভ আউট হলে তার পরের বলেই রবীন্দ্র জাদেজাও শিকার হন আমিরের। তবে হাতছাড়া হয় আমিরের হ্যাটট্রিক।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভারতের দলীয় সংগ্রহ ১৬ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে শত রান।

শুরুতে নাসিম-শাহীনের জোড়া আঘাত
কয়েক দফা বৃষ্ট বাগড়ার পর ভারতের ইনিংসের শুরুটা ভালো হলো না। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে নাসিম শাহকে পয়েন্টের মাথার ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে সোজা উসমানের হাতে ধরা পড়েন কোহলি। তিন বলে একটি বাউন্ডারিতে থেমে যায় তার ইনিংস।
তবে প্রথম ওভারে শাহিন আফ্রিদিকে বিশাল এক ছক্কা হাকিয়ে বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছেন রোহিত শর্মা। তবে মহারণের এই ম্যাচে তার ইনিংসও স্থানী হয়নি। শাহীন আফ্রিদির বলে হারিস রউফের হাতে ধরা পড়েন ভারতীয় কাপ্তান। প্যাভিলিয়নে ফেরত যাওয়ার আগে ১২ বলে এক বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১৩ রান করেছেন তিনি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিন ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দুই উইকেট হারিয়ে ২০ রান। কোহলির পর ব্যাট করতে এসেছেন রিশভ পন্থ এবং রোহিতের পর আকশার প্যাটেল।

আবারও বৃষ্টি, এবার ওভার কাটার সম্ভাবনা
এ যেন বৃষ্টির খেলায় মেতেছে নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ভারত-পাকিস্তানকে মাঠে দাঁড়াতেই দিচ্ছে না বৃষ্টি। অনেক বাগড়ার পর জাতীয় সংগীত গেয়ে মাঠে রোহিত-বাবররা নামলেন ঠিকই, কিন্তু বেশিক্ষণ থাকা হয়নি।
শাহীন আফ্রিদির করা এক ওভার পরই আবারও মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় দুই দল। ছুটে এসে পিচ ঢেকে দেন গ্রাউন্সম্যানরা। এবারের বৃষ্টি ভারী নয়। আশা করা যাচ্ছে দ্রুই দুই দল মাঠে ফিরবে। তবে এবার কিছু ওভার হারাতে হতে পারে ম্যাচটিতে।
শাহীনের করা ওই ওভারে রোহিতের একটি ফ্লিকে বল সোজা উড়ে গিয়ে পড়েছে দর্শক গ্যালারিতে। ওভারের প্রথম বলে একটি ডাবল ও তৃতীয় বলে বিশাল একটি ছক্কায় দলীয় সংগ্রহ আট রান, যার সবই করেছেন রোহিত। বিরটা এখনও স্ট্রাইক প্রান্তে যেতে পারেন নাই।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আবারও মাঠে বল গড়াবে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ওভার কাটা হয়নি।

ভারত-পাকিস্তানকে নিয়ে খেলছে বৃষ্টি
ভারত-পাকিস্তান মহারণের আগে দল দুটিকে নিয়ে খেলছে বৃষ্টি। নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৩০ মিনিট পর টস হয়। টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর। কিন্তু তারা মাঠে নামতেই আবারও শুরু হয় বৃষ্টি। ফলে বাবর বাহিনী আবারও প্যাভিলিয়নের ভেতরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ঢেকে দেওয়া হয় পিচ।
পিচ থেকে কভার সারানো শুরু হলেও এই মুহূর্তে আকাশ বেশ মেঘলা দেখাচ্ছে।
সবশেষ জানা গেছে, ম্যাচটি গড়াবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে। বর্তমানে আকাশ খানিকটা উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।
ভারতীয় ব্যাটার সুরিয়া কুমার যাবদ বলেন, আমরা অবশ্যই এমন আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত নই। তবে আমাদের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত ভালো হয়েছে। আমি এই ট্র্যাকে কোনো শট এড়িয়ে যাওয়ার কথা ভাববো না। আগেও দুই দলের মধ্যে দুর্দান্ত প্রতিযোগিতা হয়েছে। তাই সত্যিই এটির জন্য অপেক্ষা করছি।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে পাকিস্তান
বৃষ্টি বাগড়ার পর নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আযম।
টস জিতে তিনি বলেন, আবহাওয়া এবং পিচের আর্দ্রতার কারণে আমরা প্রথমে বোলিং করবো। কন্ডিশন আমাদের উপযোগী।
চার জন ফাস্ট বোলার নিয়ে নামছেন জানিয়ে বাবর বলেন, আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার করার চেষ্টা করবো। অতীত ভুলে গিয়ে আমরা আজকের ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করছি এবং আমরা আজকের জন্য প্রস্তুত।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি সব সময়ই বড় খেলা। এই দুই দলের ম্যাচে আমাদের আত্মবিশ্বাস সবসময়ই বেশি থাকে। তবে আজকে মিডল অর্ডার আজম খান বিশ্রাম নিচ্ছেন।
ভারতীয় কাপ্তান রোহিত শর্মা বলেন, টস জিতলে আমরাও আগে বোলিং করতাম। এমন কন্ডিশনগুলো আমাদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে সাহায্য করেছে। আমরা একটি ভালো স্কোর পেতে ব্যাটিং ইউনিট হিসাবে আমাদের করনীয় সম্পর্কে কথা বলেছি । তারপর আমাদের রক্ষা করার জন্য বোলিং ইউনিট রয়েছে। বিশ্বকাপে প্রতিটি খেলাই গুরুত্বপূর্ণ, এখানে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। আমরা একই একাদশে থাকছি।
ভারত: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, রিশব পন্থ, সুরিয়া কুমার যাদব, শিবম দুবে, হার্দিক পাণ্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, জসপ্রীতি বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ, আর্শদ্বীপ সিং।
পাকিস্তান: মোহাম্মদ রিজওয়ান, বাবর আজম (অধিনায়ক), উসমান খান, ফখর জামান, সাদাব খান, ইফতেখার আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, শাহীন আফ্রিদি, হারিস রউফ, নাসিম শাহ, মোহাম্মদ আমির।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টি বাগড়া, টস বিলম্ব
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই যে মহারণ, তা এর আগে বহুবার দেখেছে বিশ্ব। কিন্তু ম্যাচটি যখন বিশ্বকাপের, তখন এর স্বাদ পুরোটাই আলাদা। অম্লান সেই স্বাদে বাধ সেধেছে বেরসিক বৃষ্টি।
বৃষ্টি বাগড়ায় এখন পর্যন্ত নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলের টস হয়নি। আউটফিল্ড ভোজা থাকায় ঢেকে রাখা হয়েছে পিচ। যদিো ম্যাচটির আগে এমন আশঙ্কা করা হয়েছিল।
সর্বশেষ জানা গেছে, বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় টস হবে। তবে আপনি যদি ওভার কাটার কোনো শঙ্কা করে থাকেন, তেমনটি কিন্তু হচ্ছে না।
তবে আউটফিল্ড যাই হোক, দুই দলের সমর্থকদের আগমনে ভরে উঠেছে স্টেডিয়াম। এরি মধ্যে রোহিত ও দ্রাবিড়ের সঙ্গে আম্পায়ারদের কথা বলতে দেখা গেছে।

তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পরিষ্কার বলা হলো বর্তমানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে মাঠে খেলোয়াড়রা প্রায় ৩০ মিনিট আগে এসেছেন। হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে তাদের ওয়ার্মআপ করতে দেখা গেছে। আম্পায়াররা হাতে ছাতা নিয়ে মাঠে আড্ডা দিচ্ছেন।
সুপার এইটে যেতে পারবে তো পাকিস্তান?