জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন, ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপিকে মাটিতে নামিয়ে আনা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ১০ বছর পর লোকসভায় বিরোধী দলীয় নেতার আসন ফিরতেই সেই আসনে বসলেন তিনি। প্রথমবারের মতো সাংবিধানিক পদে বসেই চমক দেখিয়েছেন রাহুল। সবাইকে অবাক করে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করেছেন তিনি।
যথারীতি এই মূহূর্ত এখন নেট দুনিয়াতে ভাইরাল। রাহুলের লাখো কোটি ভক্তরা বলছেন, নতুন ইনিংস শুরু করেই ছক্কা হাঁকালেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদের ‘ইনডিয়া’ জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনায় সবার মত নিয়ে ঠিক হয়, ১৮তম লোকসভায় রাহুল গান্ধীই হবে বিরোধী দলীয় নেতা। এরপর লোকসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে রাহুলের নাম ঘোষণা ঘোষণা করা হয়।
২০১৪ সাল থেকে বিরোধী দলীয় নেতাশূন্য ছিল লোকসভার বিরোধী দল। কারণ লোকসভায় বিরোধী নেতা হওয়ার জন্য কোনো একক দলকে মোট ৫৪৩ আসনের কমপক্ষে দশ শতাংশ পেতে হয়। কিন্তু গেলো দুইটি লোকসভার নির্বাচনে কংগ্রেস বা অন্য কোনো দল তা পূরণ করতে পারেনি। অবশেষে রাহুল ম্যাজিকে এবার সেই যোগ্যতা অর্জন করে কংগ্রেস। আর বিরোধী দলীয় নেতা হয়ে তারই পুরস্কার পেলেন তিনি।

২০০৪ সালে আমেথি থেকে জিতে লোকসভায় প্রবেশ করেন রাহুল গান্ধী। তারপর দশ বছর কেন্দ্রে ইউপিএ-র সরকার ছিলো। সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অনেকবার রাহুলকে মন্ত্রী হবার অনুরোধ করলেও রাজি হননি তিনি। তবে ২০১৭ সালে রাহুল কংগ্রেস সভাপতি হন। ২০১৯ সালে লোকসভার ভোটে কংগ্রেস শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলে রাহুল ইস্তফা দেন। তবে রাজনীতির ময়দান ছেড়ে যাননি তিন।
নিরন্তর পরিশ্রম করে গেছেন একজন পরিণত রাজনীতিক হতে। ভারতে এবারের লোকসভা ভোটে কেরালা রাজ্যের ওয়েনাড় এবং উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলি- দুইটি আসন থেকেই, সাড়ে তিন লাখের বেশি ব্যবধানে জয়ী হন রাহুল। এ পরিস্থিতিতেই তাকে বিরোধী দলনেতা করার জোরাল দাবি উঠেছিলো। এই প্রথমবার লোকসভায় সামনে থেকে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী।
রাজনীতিতে রাহুলের এই প্রত্যাবর্তন রীতিমতো বিষ্ময়কর। আগের থেকে অনেক বেশি পরিণত। তিনি এখন মেপে চলেন। ভোটের ফলাফল বেরুনোর পরে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই সবাই বুঝে যায় রাহুল এখন আর উপহাসের ‘পাপ্পু’ নন। গায়ে সাদা শার্ট, হাতে সংবিধান। মেপে কথা বলেন। কেউ একটাও মিম বানালো না। অন্তত দু’একটা কটূ কথাও ধেয়ে এলো না। তাঁর হাতেই কি কংগ্রেসেই ফিরে আসা?
মাঝে একটা সময় নিজের লোকসভার সদস্য পদ খুইয়েছিলেন। হারিয়েছেন বাংলো। তবুও তিনি সে সময়ও নিজের লক্ষ্যেই অবিচল ছিলেন। বিজেপি জাঁতাকলে, নিজের সবটুকু বিসর্জন দিয়ে দিতেই পারতেন, তবুও তিনি স্থির থেকেছেন। একমনে কাজ করে গেছেন। আবার জীবন দিয়েছেন কংগ্রেস এবং নিজেকে। নতুন সংসদে তিনি কি হূল ফোটাতে পারবেন? আগামী নির্বাচনে কী আরও বড় কোন যাদু? সময়ই কথা বলবে।
