ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে লেজেগোবরে পাকিয়ে ফেলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবার তীব্র ডোনার সঙ্কটে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের বেশ কয়েকজন বিত্তশালী অর্থ দাতা, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী থেকে বাইডেনকে সরাতে প্রকাশ্যেই চাপ সৃষ্টি করেছেন।
ডোনাররা বলছেন, বাইডেনের পুনঃনির্বাচনের প্রচারে জন্য তারা আর দলের জন্য অর্থ ঢালবেন না। গত সপ্তাহের বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চরম বিপর্যয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের দাতারা এমন হুমকিও দিচ্ছেন যে, শেষ পর্যন্ত বাইডেনই যদি নির্বাচন করেন, তাহলে তারা অন্য জায়গায় অর্থ দেবেন।
মার্কিন এইসব ধনকুবের অর্থ দাতাদের মধ্যে রয়েছেন ডিজনি পরিবারের উত্তরাধিকারী অ্যাবিগেল ডিজনি, হলিউডের প্রযোজক ড্যামন লিন্ডেলফ, হলিউড এজেন্ট অ্যারি ইমানুয়েল এবং সমাজসেবী ও উদ্যোক্তা গিডিয়ন স্টেইন, নেটফ্লিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হেস্টিংসের মতো প্রভাবশালীরা।
তবে পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন জো বাইডেন। শুক্রবার তিনি প্রাইমটাইম টিভিতে এক বিরল সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং উইসকনসিনে সমাবেশে যোগ দিয়ে জনসমর্থন জোগাড়ের প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়েছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কের পরই ৮১ বছর বয়সী বাইডেনকে ভোটের মাঠ ছাড়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী নেতা হিসেবে বয়স্ক বাইডেনকে আর যোগ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে না। কারণ, বিতর্ক অনুষ্ঠানে পরিস্কার হয়ে গেছে যে, বাইডেনের আচরণে বয়সের ছাপ স্পষ্ট।
যদিও বাইডেন স্বীকার করেছেন যে, সেই রাতে তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন। তবে নভেম্বরের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তিনিই দলের নেতৃত্বে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে এটা সত্যি যে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটাভুটির আগে, প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী- ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নাকানিচুবানি খাওয়ার পর বড় বিপদেই আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন।
বিতর্কে ৮১ বছরের প্রেসিডেন্টের অবস্থা দেখে ঘাবড়ে গেছে তার দলের সদস্যরাই। এরি মধ্যে বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।
এই পরিস্থিতিতে, বাইডেন জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের মাঠ থেকে কোনোভাবেই সরে দাঁড়াবেন না তিনি। সে সঙ্গে এটাও স্বীকার করেছেন, বিতর্কে তিনি ভালো করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হোয়াইট হাউজে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বাইডেন তার অনড় অবস্থানের কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বলছেন, আমি অন্য কোথাও যাবো না।
কিন্তু প্রভাবশালী মার্কিন ব্যবসায়ী ও ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম ডোনার ডিজনি সিএনবিসি টেলিভিশনকে বলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেন এবার জিততে পারবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। ডিজনি বলছেন, তিনি বাইডেনকে দেয়া সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন বাস্তবতার কথা চিন্তা করে, তাকে অসম্মান করে নয়।
বিগত বছরগুলোতে দল হিসেবে ডেমোক্র্যাট ও তাদের অসংখ্য প্রার্থীকে সমর্থন-সহযোগিতা দিয়ে আসছেন ডিজনি। বলেন, বাইডেব খুবই ভালো মানুষ এবং দীর্ঘদিন তিনি এই দেশকে সেবা করার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা ঢেলে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা খুবই কঠিন। বাইডেন যদি না সরে তাহলে ডেমোক্র্যাটরা হারবেই, এটা আমি শতভাগ নিশ্চিত। আর এই পরাজয়ের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
ডিজনির যে কথা, সেই কাজ। আরও কয়েকজন ধনকুবেরের সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন তিনি। ওই ধনকুবেররাও বাইডেন না সরলে ডেমোক্র্যাটদের আর অর্থ দেবেন না সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সমাজসেবী ও উদ্যোক্তা মিঃ স্টেইন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, বাইডেন যদি না সরেন, তাহলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অলাভজনক ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার খরচ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন না।
হলিউডের প্রযোজক লিন্ডেলফ আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এরি মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের এক লাখ লাখ দান করেছেন। সেই লিন্ডেলফ এক নিবন্ধ লিখে অন্য দাতাদের তহবিল আটকে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। বাইডেন না সরালে অর্থ বন্ধ করার এই ক্যাম্পেইনকে ‘ডেমবার্গো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চিফ অব স্টাফ রম ইমানুয়েলের ভাই এবং হলিউড এজেন্ট অ্যারি ইমানুয়েল কলোরাডোতে একটি সম্মেলনে বলেছেন, ভোটের দৌড় থেকে বাইডেন সরানোর মূল চাবিকাঠি হলো অর্থ দেয়া বন্ধ করা। তহবিল এমন এক জিনিস, যা রাজনৈতিক প্রচারাভিযানে রক্ত সঞ্চালনের ভূমিকায় থাকে। টাকা না থাকলে সব শুকিয়ে যাবে।

ইমানুয়েল আরও বলেন, অর্থ কী জিনিস তা আপনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেখতে পাবেন, যদি টাকা না আসে। আমি বেশ কয়েকজন বড় দাতাদের সাথে কথা বলেছি। তারা তাদের সমস্ত অর্থ কংগ্রেস ও সিনেটকে দিয়ে দিচ্ছে।
কয়েকজন বড় ধনকুবেবের এমন প্রকাশ্য হুমকির মধ্যে, আরও কিছু বড় দাতা তহবিল কমানোর হুমকি দেননি এখনও, কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বাইডেনকে সরিয়ে দিতে জনসাধারণকে চাপ দিচ্ছেন।
নেটফ্লিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম বড় দাতা রিড হেস্টিংস বলেছেন, বাইডেনকে সরিয়ে আমাদের এমন একজন শক্তিশালী ডেমোক্র্যাটিক নেতা দরকার; যিনি ট্রাম্পকে পরাজিত করতে এবং আমাদের নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাখতে পারবেন।
তবে এই মুহুর্তে বাইডেন সরে গেলে তার জায়গায় কে আসবেন তা নিয়ে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
‘বয়স্ক’ বাইডেনকে ভোট থেকে সরার পরামর্শ
নির্বাচন থেকে কিছুতেই সরে দাঁড়াবেন না বাইডেন