আর মাত্র চারদিন! এরপরই প্রেমিকা রাধিকা মার্চেন্টের সাথে সাত পাকে বাধাঁ পড়ছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে আনন্ত আম্বানি। আম্বানি পরিবারের বিয়ে বলা কথা, রাজকীয় সব আয়োজন ভারত তো বটেই, তাক লাগিয়ে দিচ্ছে গোটা বিশ্বকে। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন ছেলের বিয়েতে কত টাকা খরচ করছে আম্বানি?
ভারতের আরেক ধনকুবের ভিরেন মার্চেন্টের মেয়ে রাধিকা মার্চেন্টের সাথে আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির এই বিয়েতে ১০০ মিলিয়ন ডলার কিংবা ১ হাজার কোটি টাকার মত খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বেশ কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলার বা এক হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হতে পারে এই বিয়েতে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে এমনটা দাবি করা হলেও আসল অংক আরও বড় হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে এই বিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিয়ের তালিকায় নাম লেখাতে পারে। তবে খরচ যা ই হোক না কেন, আম্বানিপুত্রের এই বিয়ের খরচ অতীতের অনেক রেকর্ডকেই ভেঙ্গে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের বিয়েতে কয়েক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। বিশেষ আমন্ত্রণ পাচ্ছেন ভিভিআইপি ও ভিআইপিরাই। ক্রিকেট জগতের তারকা থেকে শুরু করে বলিউড সেলিব্রেটি, হলিউড এবং বড় রাজনীতিবিদ কে নেই সেই তালিকায়?

মুম্বাইয়ের পাঁচ তারকা হোটেলে রুম খালি নেই!
এদিকে অনন্ত আম্বানি ও তাঁর প্রেমিকা রাধিকা মার্চেন্টের বিয়েকে ঘিরে ভারতের বাণিজ্য নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পাঁচ আর সাত তারকা হোটেলেও লেগেছে দুর্মূল্যের ছোঁয়া। রাত প্রতি ১৩ হাজার টাকার রুমগুলোর ভাড়া এখন লাখ টাকার উপরে।
ভারতের বিভিন্ন সংবাদ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মুম্বইয়ের প্রধান বাণিজ্য এলাকার হৃদপিণ্ড বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের প্রধান দুটি পাঁচতারা হোটেলের সব ঘর ইতিমধ্যে বুক হয়ে গেছে। জুলাই মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ৯১,৩৫০ রুপিতে একেকটি ঘর বুক করা হয়েছে।
ভারতে বাড়ছেই চলছে বিয়ে অনুষ্ঠানের খরচ
সম্প্রতি সিএনএনও এই বিয়ে নিয়ে বিশাল এক প্রতিবেদন ছেপেছে। সিএনএনের মতে, এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানি পরিবার ভারতের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। এখন ভারতে যে হারে অতি ধনী বাড়ছে, তার চেয়ে বেশি হারে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেফরিসের তথ্য বলছে, মহামারির পর ভারতের বিবাহশিল্পের বড় ধরনের উত্থান হয়েছে। এই শিল্পের বার্ষিক আকার এখন ১৩০ বিলিয়ন বা ১৩ হাজার কোটি ডলার। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, ভারতের মানুষ এমনিতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সচেতন হলেও বিয়ের অনুষ্ঠানে তারা ব্যয় করতে ভালোবাসে। যে শ্রেণির মানুষই হোক না কেন, সবার মধ্যেই একই প্রবণতা করে।
ভারতের বিয়ের অনুষ্ঠানের গড় খরচ ১৫ হাজার ডলার, যদিও তাদের বার্ষিক পারিবারিক আয় পাঁচ হাজার ডলার। অর্থাৎ বার্ষিক পারিবারিক আয়ের তিনগুণ অর্থ বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যয় হয়। যদিও বিশ্বের অনেক দেশেই বিয়ের অনুষ্ঠানে বড় ধরনের ব্যয় করা হয়। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু ব্যয়ের নয়; এর সঙ্গে ক্ষমতা ও মর্যাদার বিষয় জড়িয়ে আছে।
দক্ষিণ এশিয়ার মানুষেরা সন্তানের বিয়েতে জীবনের সঞ্চয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় করেন। সিএনএন বলছে, ভারতের অনেক বিয়ের অনুষ্ঠানের জাঁকজমক এতটাই বেশি যে এর সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক উত্থানের সম্পর্ক আছে। গত এক দশকে ভারতের সব শ্রেণির মানুষের বিয়ের অনুষ্ঠানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ধনীরা এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন।

নট ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের তথ্য বলছে, ভারতের বিয়ের অনুষ্ঠানে গড়ে ৩২৬ অতিথি আমন্ত্রিত হন; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যা মাত্র ১১৫ জন। ধনীদের বেলায় এই সংখ্যাটা বহুলাংশে বেড়ে যায়। ধনীদের বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজার হাজার অতিথি থাকেন; এমনকি এসব বিয়ে এখন বিদেশের দামি জায়গায় হচ্ছে। সেই সাথে মানুষ দামি দামি উপহার দিচ্ছে।
এদিকে, ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয়-বৃহত্তম অর্থনীতি হবে ভারত। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয়া হচ্ছে, তখন ভারতে এমন জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান আরো বাড়বে। আবাসন খাতের পরামর্শক সংস্থা নাইট ফ্রাঙ্কের তথ্য বলছে, ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতে তিন কোটি ডলারের বেশি সম্পদধারী মানুষের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়বে। এর চেয়ে বেশি হারে কোথাও বাড়বে না। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে মধ্যবিত্তের সংখ্যা ৬০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। দেশটির মানুষ যত ব্যয় করে, তার ৮০ শতাংশের বেশি তারাই ব্যয় করবে।
