দুই দুটো জমকালো আয়োজনের প্রাক বিবাহ অনুষ্ঠানের পর, আর কিছুক্ষণের মধ্যে সাতপাকে বাঁধা পড়বেন এই সময়ের আলোচিত যুগল অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা মার্চেন্ট। শুক্রবার, মুম্বাইয়ের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে নয়টায় লগ্ন বিধি মেনেই বীরেন ও শায়লা মার্চেন্টের ছোট মেয়ে রাধিকার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবেন মুকেশ এবং নীতা আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত। এরিমধ্যে শুরু হয়েছে গেছে সাফা বাঁধা অর্থাৎ বরযাত্রা অনুষ্ঠান।
মুম্বাইয়ের আম্বানি পরিবারে বিশালবহুল বাসভবন আন্টলিয়াতে সবাই একত্রিত হয়েছে স্থানীয় সময় বিকেল তিনটার দিকে শুরু হয় বরযাত্রা। বিশাল মিছিল সহকারে ঘোড়ার গাড়িতে করে বিয়ের আসরে পৌঁছেছেন একালের রাজপুত্র অনন্ত আম্বানি। এরপর রাত আটটায় মালা বদল অনুষ্ঠান। আর রাত সাড়ে নয়টায় লগ্নবিধি অনুষ্ঠানে সাতপাকে বাঁধা পড়বেন অনন্ত-রাধিকা। সেই সঙ্গে নতুন ধাপে উন্নীত হবে ছোটবেলার প্রেম।
মুম্বাইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হাজার কোটি রুপির এই বিয়ে বাসর। এতে যোগ দিয়েছেন দেশ বিদেশের একাধিক মান্যগণ্য হাইপ্রোফাইল অতিথি। আরও আছেন বিনোদন দুনিয়ার তাবড় তাবড় সব তারকারা। বলিউড তারকা থেকে শুরু করে স্পোর্টস, রাজনীতি, ব্যবসা, বিদেশি তারকাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের খ্যাতনামা ব্যক্তিরা এখন একই ছাদের তলায় অনন্ত-রাধিকাকে আশীর্বাদ জানাতে।

শাহরুখ খান থেকে শুরু করে সালমান খান, আমির খান, আলিয়া ভাট, রণবীর কাপুর, দীপিকা পাডুকোন, রণবীর সিং, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, নিক জোনাস, কিম কার্দাশিয়ানকে দেখা গেছে এই বিয়েতে। তবে, করোনায় আক্রান্ত অক্ষয় কুমার আসতে পারেননি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুকেশের ডাকে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন নবদম্পতি অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টকে আশীর্বাদ দিতে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিয়ের আসরে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে, ঠাকরে পরিবার এবং দেবেন্দ্র ফড়নবিস। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং টনি ব্লেয়ার, পিটার ডায়মান্ডিস, শিল্পী জেফ কুনস, কোচ জে শেঠি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারও বিয়ের আসরে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন দিন ধরে চলবে অনন্ত-রাধিকার বিয়ে। শুক্রবার শুভ বিবাহ দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর ১৩ জুলাই হবে শুভ আশীর্বাদ অনুষ্ঠান এবং ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে রিসেপশন। অতিথিদের আপ্যায়নে মেগা পরিকল্পনা করেছেন মুকেশ আম্বানি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশিষ্ট অতিথিদের মুম্বাইতে হাজির করার জন্য তিনটি ফ্যালকন জেট আর ২০০টি প্রাইভেট প্লেন ভাড়া করেছেন আম্বানিরা।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি বিয়েগুলির মধ্যে অন্যতম অনন্ত-রাধিকার বিয়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ছেলের বিয়েতে মুকেশ খরচ করেছেন হাত খুলে।
ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের বিয়েতে খরচ হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। চোখ কপালে উঠার মতো তথ্য হলেও, আম্বানিদের মোট সম্পত্তির খুব সামান্য অংশই এটি। আম্বানিদের মোট সম্পত্তি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ খরচ হচ্ছে!
বিয়েতে বরের বেশ কেমন হবে সেই নিয়ে চলছিল জোর চর্চা। শেষমেশ প্রকাশ্যে এলো অনন্তের সাজপোশাক। কমলা শেরওয়ানির পরেছেন হবু বর। অনন্ত যে পশুপ্রেমী, সেটাও ধর পড়েছে তার বিয়ের সাজে। বুকের বাঁ দিকে একটি হাতির ব্রোচ পরেছেন অম্বানী-পুত্র। কেবল অনন্তের সাজ নয়, গোটা অম্বানী পরিবারের সাজেই ধরা পড়ল চমক। নীতা, শ্লোকা, ইশার পরনে লেহঙ্গা। সকলের পোশাকেই রয়েছে গোলাপি আভা।
অন্য দিকে অম্বানী পরিবারের সকল পুরুষেরাই পরেছেন শেরওয়ানি। মুকেশ আর আকাশের পরনে গোলাপি শেরওয়ানি হলেও ইশার স্বামী আনন্দ পিরামলের পরনে ছিল রুপোলি রঙের শেরওয়ানি। অনন্তের রূপ প্রকাশ্যে এলেও এখনও রাধিকার সাজ কেমন হবে সেই নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। প্যাস্টেল না কি উজ্জ্বল কোন ধরনের লেহঙ্গায় সাজে সাজবেন তিনি, সেই নিয়ে এখনও চর্চা চলছে।

বিকেল পর্যন্ত নবদম্পতির বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে না এলেও ইতিমধ্যেই তাঁদের বিয়ের মেনুতে কী কী রয়েছে তার খবরাখবর ইতিউতি ঘোরাফেরা করতে শুরু করেছে। সম্পূর্ণ মেনুর খোঁজ না পাওয়া গেলেও অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য যে সব মুখরোচকের আয়োজন করা হয়েছে, তা শুনলেই চমক লাগে। ফুচকা থেকে শুরু করে হরেক রকমের চাট। দইবড়া, শিঙাড়া থেকে শুরু করে তালিকায় রয়েছে অনেক কিছু।
বেনারসের এক বিখ্যাত চাটের দোকান থেকেই নাকি সব মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। সেই দোকানের মালিক রাকেশ কেশরী জানিয়েছেন, জুন মাসে মুকেশ-পত্নী নীতা অম্বানী তার দোকানে খেতে গিয়েছিলেন। সেখানকার খাবার খেয়ে তিনি এতই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন যে, অনন্তের বিয়ের জন্যও অর্ডার দিয়ে দেন। রাকেশ বলেন, ২৪ জুন কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরে এসেছিলেন নীতা।

এই বিয়ের খাবারের মেন্যুতে আরও থাকছে- পাস্তা, ভাদা পাভ, বোম্বোলোনস, লিক কুইচ, ফ্রেশ ক্রিম চিজ ও পেটিট পোইসের মতো খাবার। এর আগে ভারতের গুজরাটের জামনগরে অনন্ত ও রাধিকার প্রাক-বিবাহ আয়োজনেও ছিল দেশি-বিদেশি নানা ধরনের খাবার।
অনন্ত আম্বানির প্রি-ওয়েডিং সেলিব্রেশনে মোট ২৫০০ পদের আয়োজন ছিল। প্রি-ওয়েডিংয়ের আয়োজনে কোনো খাবারই বিয়েতে খাবারের তালিকায় থাকছে না। অর্থাৎ, অনন্ত-রাধিকার গ্র্যান্ড বিয়ের খাবারের তালিকায় থাকতে পারে অসংখ্য পদ।
পাকিস্তানে থেকে যাওয়া বাঙালিরা কেমন আছে?