মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালিয়েও দেশটির নৌ শক্তির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি বরং পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইসরাইলবিরোধী হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইয়েমেন আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া।
মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের ইয়েমেন বিষয়ক এক বেঠকে এ মন্তব্য করেন নেবেনজিয়া। খবর পার্সটুডে ও তাস নিউজ এজেন্সির।
নেবেনজিয়া বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে কিছু দেশ আগুনে ঘি ঢালছে এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। ইঙ্গো-মার্কিন হামলায় ইয়েমেনের তেমন কোনো ক্ষতি হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বরং উল্টো লোহিত সাগরে ইয়েমেনের নৌবাহিনীর হামলা জোরদার হতে দেখা যাচ্ছে।

ইয়েমেন পশ্চিম এশিয়ার একটি সার্বভৌম দেশ এবং দেশটি ইঙ্গো-মার্কিন আগ্রাসনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে এ সিনিয়র রুশ কূটনীতিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ছয় মাসের বেশি সময় ধরে আগ্রাসন চালিয়েও ইয়েমেনের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি বরং উল্টো প্রতিরোধকামী দেশটির সামরিক শক্তি আরও বেড়ে গেছে।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সামরিক বাহিনী এডেন উপসাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী ইসরাইলের জাহাজে হামলা শুরু করে। এর পরপরই ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে। জবাবে হুতি সমর্থিত সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জাহাজকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করে।
গেলো ছয় মাসে ইসরাইল ও তার মিত্রদেশগুলোর শতাধিক জাহাজ ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। পাশাপাশি ইসরাইলের একটি সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
হুতিরা বলছে, গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আক্রমণ চলতে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য ইসরাইলের পাশে দাঁড়ালেও হুতিদের ঠেকাতে পারবে না।
নেপালে ১৯ আরোহীসহ বিমান বিধ্বস্ত
তাইওয়ানে আঘাত হানতে যাচ্ছে টাইফুন গেইমি