উচ্চতার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাঁধ থেকে পানি বেরিয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে তার কার্যালয় ‘যমুনায়’ যান ভারতীয় হাই কমিশনার।
বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাকিদদের বলেন, ভারতের হাইকমিশনার প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন, ত্রিপুরায় অনেক বৃষ্টি হয়েছে। পানির উচ্চতার কারণে বাঁধ থেকে অটোমেটিক পানি রিলিজ হয়েছে। তিনি বলেছেন, ত্রিপুরায় বন্যা অপ্রত্যাশিত যা দুই দেশেরই সমস্যার কারণ।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সাথে ভারতের হাইকমিশনারের খুবই আন্তরিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিলো। বৈঠকে প্রণয় ভার্মা বর্তমান সরকারের সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের কারণ দেশে ভারতীয় স্থাপনার নিরাপত্তার বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এমন ভয়াবহ বন্যায় কী ধরনের আগাম সতর্কতা আমরা পেতে পারি, আমাদের আগাম সতর্ক করা হয়েছিল কি না, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলো কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে কথা বলতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের একটি বৈঠক হবে।
ওই ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, উজানের পানি বাংলাদেশে ধেয়ে এসে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই বাঁধ খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অসহযোগিতা করছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ত্রিপুরায় গোমতী নদীর উজানে ডাম্বুর বাঁধ খুলে দেওয়াকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির কারণ হিসাবে বর্ণনা করে বাংলাদেশে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা আমরা দেখেছি। এটা তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতে গোমতী নদীর সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকদিনে চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাঁধের ভাটি এলাকার পানির কারণে বাংলাদেশের বন্যা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ডাম্বুর বাঁধ সীমান্ত থেকে অনেক দূরে, বাংলাদেশের ১২০ কিলোমিটার উজানে। প্রায় ৩০ মিটার উচ্চতার এই বাঁধের মাধ্যমে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলে। সেখান থেকে ত্রিপুরা হয়ে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পায় বাংলাদেশ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ২১ আগস্ট থেকে পুরো ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ব্যাপক অন্তঃপ্রবাহের কারণে পানি নিজে থেকে বের হওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।
বাংলাদেশে বন্যা নিয়ে যা বলছে ভারত
বাঁধ খুলে অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে ভারত: উপদেষ্টা নাহিদ 