ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বললেন হাবিবুল আউয়াল

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৩৭ পিএম

শুধু মাত্র নির্বাচন কমিশনের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে অবাধ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য পদত্যাগী সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলে লক্ষ্য অর্জন হবে। আর  নির্বাচন পদ্ধতিতে মৌলিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রার্থীদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। একইসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন তার কমিশনের অন্য চার কমিশনারও। 

হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সচিবের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান ও মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা ও আনিছুর রহমান অনুপস্থিত ছিলেন।

বিদায়ের আগে সাংবাদিকদের কাছে নিজের অভিজ্ঞাতা যেমন তুলে ধরেন, তেমনি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার একটি রূপরেখাও দেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। 

তিনি বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ার সব দোষ বা দায়দায়িত্ব সবসময় কেবল নির্বাচন কমিশনের উপর এককভাবে আরোপ করা হয়ে থাকে। একটি কমিশন না হয় অসৎ বা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। কিন্তু সবসময় সব কমিশনই অসৎ বা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে না।

'বিদ্যমান ব্যবস্থায়, আমাদের বিশ্বাস, কেবল কমিশনের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে অবাধ, নিরপেক্ষ, কালো টাকা ও পেশিশক্তি-বিবর্জিত এবং প্রশাসন-পুলিশের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে না। নির্বাচন পদ্ধতিতে দুর্ভেদ্য মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আচরণে এবং বিশেষত প্রার্থীদের আচরণে পরিবর্তন প্রয়োজন হবে,' বলেন হাবিবুল আউয়াল। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি সাধারণ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হলে উদ্দেশ্য অর্জন আরও সুনিশ্চিত হতে পারে।

বিদায়ী সিইসি বলেন, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর সমরূপতার (হোমোজেনিটি) কারণে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (দলীয় ভিত্তিক) নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ আদর্শ ক্ষেত্র হতে পারে। সেইসঙ্গে নির্বাচন চার বা আটটি পর্বে; প্রতিটি পর্বের মাঝে তিন থেকে পাঁচ দিনের বিরতি রেখে, অনুষ্ঠান করা ব্যবস্থাপনার দিক থেকে সহজ ও সহায়ক হতে পারে। আমাদের প্রবর্তিত অনলাইনে নমিনেশন দাখিল অব্যাহত রেখে নির্বাচন পক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার অপটিমাইজ করতে পারলে উত্তম হবে।

কাজী হাবিবুল আউয়াল দেশের প্রথম সাংবিধানিক সাধারণ নির্বাচন ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের কথা তুলে ধরেন। বলেন, সেই নির্বাচন নিয়েও বিতর্ক ছিলো। ১৯৭৯ ও ১৯৮৭ সালের সাধারণ নির্বাচন সামরিক শাসনামলে হয়েছে। ফলাফল নিয়ে বিতর্ক ছিলো। ১৯৯১-এর নির্বাচন রাজনৈতিক রূপরেখার ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছিল। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন সাংবিধানিক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সূক্ষ্ম বা স্থূল কারচুপির সীমিত সমালোচনা সত্ত্বেও সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। 

২০০৮ সালের নির্বাচন সেনাসমর্থিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই নির্বাচনে বিএনপি সংসদে মাত্র ২৭টি এবং আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়েছিল। নির্বাচন বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। সেসময় নিরাপদ প্রস্থানের (সেফ এক্সিট) বিষয়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সেনাসমর্থিত অসামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দরকষাকষির বিষয়টি প্রকাশ্য ছিলো। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন সংবিধানমতে দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে।

হাবিবুল আউয়াল বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক দলই অংশগ্রহণ করেনি। ফলে সেই নির্বাচনও ২০২৪ সালের মতো অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) ছিল না। ৪৪টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৮টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও প্রধানতম বিরোধ দল বিএনপি ও সমমনা দলগুলো সেই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি। কমিশন বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য একাধিকবার আহ্বান করা সত্ত্বেও তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।

তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করার সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেকারণে অনেকেই কমিশনকে দোষারোপ করছেন। নির্বাচন কখন কী কারণে কতদিনের জন্য স্থগিত করা যাবে— তাও সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। অতীতে কখনই কোনও কমিশন নির্বাচন বাতিল করে দিয়ে পদত্যাগ করেননি।

আরবি
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার কন্যা শিশু, যার বড় একটি অংশই জীবনের প্রারম্ভে বা অপ্রাপ্তবয়সে এই অন্ধকার জগতে পা রাখতে বাধ্য হচ্ছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ট্রাফিকিং...
নতুন করে বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের কাছে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ কেবল সংখ্যায় নয়, বরং কার্যকর করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের কথা বিবেচনায়...
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সব থেকে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া যদি...
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা শেষে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতেই পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দেশব্যাপী তোলপাড় ও সমালোচনার মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক...
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানে মারাত্মক ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর