ব্রিটেনে ফিলিস্তিনপন্থি এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং সুয়েলা ব্র্যাভারম্যানকে ‘নারকেল’ হিসেবে চিত্রিত করা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের কারণে জাতিগত বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে খালাস দিয়েছে লন্ডনের একটি আদালত।
শুক্রবার লন্ডনের ওই আদালতে ‘জাতিগত উত্তেজনা সৃষ্টি ও জনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন’ আইনে আনা অভিযোগে মুসলিম শিক্ষিকা মারিহা হুসেন (৩৭) নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। খবর বিবিসি’র।
বাকিংহামশায়ারের হাই উইকম্বের ওই শিক্ষিকা শুক্রবার ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্ল্যাকার্ডটি বর্ণবাদী নয় বরং ব্যঙ্গাত্মক এবং হাস্যকর ছিলো বলে দাবি করেন তার আইনজীবী।

আদালতে প্রসিকিউটর জোনাথন ব্রায়ান যুক্তি দেন যে, কাউকে নারকেল হিসেবে চিত্রিতকরণ একটি সুপরিচিত জাতিগত শ্লেষ বা গালি। এটি কাউকে ‘বাইরে থেকে বাদামী কিন্তু ভিতরে সাদা’ বা, একজন জাতি বিশ্বাসঘাতক হিসেবে ইঙ্গিত করে।
মারিহার আইনজীবী রাজীব মেনন কেসি বলেছেন, মারিহার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর একটি বিরক্তিকর আক্রমণ। তিনি একজন অনবদ্য চরিত্রের নারী এবং একজন দায়িত্বশীল এবং চিন্তাশীল নাগরিক। তিনি সত্যিকার অর্থে তার চেয়ে কম ভাগ্যবানদের দুর্দশার কথা চিন্তা করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে প্রস্তুত তিনি।
‘নারকেল’ শব্দটি একটি জাতিগত অপবাদ কিনা সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত শুনে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক ভেনেসা লয়েড রায়ে বলেছেন, এটি একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বলেই প্রতীয়মান। প্রসিকিউশন ফৌজদারি মানদণ্ডে প্রমাণ করেনি যে, এটি অপমানজনক ছিলো। প্রসিকিউশন এটিও প্রমাণ করেনি যে, তার প্ল্যাকার্ড অপমানজনক হতে পারে বলে মারিহা সচেতন ছিলেন।

মারিহা আদালতকে বলেন, তিনি ২০২৩ সালের নভেম্বরে তার পরিবারের সঙ্গে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। প্ল্যাকার্ডটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ঘৃণার বার্তা হিসেবেও কল্পনা করা যেতে পারে, এমনটা বিস্ময়কর বলে মনে করি।’
এদিকে, মারিহার সাথে একাত্মতা দেখানোর জন্য একদল বিক্ষোভকারী আদালতের বাইরে একটি সমাবেশ করেছে। সেখানে অনেককে নানা ধরণের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করতে দেখা যায়, যার মধ্যে মারিহা হুসেনের কথিত প্ল্যাকার্ডটিও দেখা যায়।
ট্রাম্প শিবিরে মুসলিমবিদ্বেষী এক নারীকে ঘিরে অস্বস্তি!