একশ’ বছরের বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙেছে দক্ষিণ কোরিয়ার তুষারপাত। এখন পর্যন্ত তীব্র শীতে একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবারই দেশটিতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে কয়েক ডজন ফ্লাইট। ফেরি কার্যক্রমও স্থগিত। পলে ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল।
দেশটির আবহাওয়া বিভাগ বলছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাজধানী সিউল অন্তত ১৬ সেন্টিমিটার পুরো তুষারের চাদরে ঢাকা পড়েছে। তবে তুলে নেয়া হয়েছে সতর্কতা নির্দেশনা। এর আগে ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে এই শহরটিতে সর্বোচ্চ ১২.৪ সেন্টিমিটার পুরুত্বের তুষারে ঢাকা পড়েছিল।
নভেম্বর মাসে অস্বাভাবিক এমন তুষারপাতের ফলে গোটা দক্ষিণ কোরিয়া জুড়েই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বলা হলে এমন নভেম্বর কখনও দেখেনি কোরিয়ানরা।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, তুষারপাতের কারণে দেশটির অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট এবং ধীর হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সিউলের আবহাওয়া পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান ইয়ুন কি হান জানিয়েছেন, এমন ভারী তুষারপাতের ঘটনা ঘটেছে শক্তিশালী পশ্চিমা বাতাস এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ ও ঠান্ডা বাতাসের মধ্যে তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকার কারণে। বুধবার রাত এবং বৃহস্পতিবার সকালেও দেশটিতে প্রবল তুষারপাত অব্যাহত থাকবে।
সিউলের ব্যবসায়ী বে জু-হান বলেন, গত সপ্তাহে আমি অনুভব করেছি, নভেম্বরের শরৎ কিছুটা উষ্ণ ছিল। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে মনে হচ্ছে, পুরোপুরি শীতকাল চলে এসেছে। ঘটনাটা বেশ উল্টো। শীতের প্রথম তুষারপাত উপভোগ করতে আমি আজ রাস্তায় নেমে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো আমি এই মৌসুমের প্রথম তুষারপাত দেখছি। তীব্র ঠাণ্ডার কারণে আমরা কোন কাজই ঠিক মতো করতে পারছি না। কয়েকদিন আগেও আবহাওয়া অনেক গরম ছিল, তখন আমরা ছোট হাতা পরতাম, তবে হঠাৎ আবহাওয়ার এই পরিবর্তন সত্যিই অপ্রত্যাশিত।
একই পরিস্থিতি দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা। সেখানে ১০ থেকে ২৩ সেন্টিমিটার তুষারে ঢাকা পড়েছে। সিউলের রাস্তায় বরফ জমে যান চলাচল ধীর হয়ে গেছে। দেশজুড়ে রাস্তায় ভেঙে পড়া গাছ ও বরফ সরানোর কাজ করছেন জরুরি কর্মীরা।

এরইমধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় হংচেওন শহরে ভারী তুষারপাতের ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে, তুষার জনিত ক্ষয়ক্ষতি ও অসুবিধা এড়াতে জনসাধারণের কাছে আবহাওয়া ও ট্র্যাফিক তথ্য দ্রুত পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় সিউলের কিছু অংশে ৪০ সেন্টিমিটারেরও (১৬ ইঞ্চি) বেশি তুষার পড়েছে। ফলে ১৪০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে আবহাওয়া কর্মকর্তারা, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে রাজধানীর মেট্রোপলিটন এলাকায় ভারী তুষারপাতের সতর্কতা তুলে নিয়েছে।
ভারী তুষারপাতের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সিউলের প্রধান বিমানবন্দর ইনচিওন। যাত্রীদের ফ্লাইট গড়ে দুই ঘণ্টা বিলম্ব করে। প্লেন ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪ জানাচ্ছে, এ সময় ১৪ শতাংশ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছিল। আরও ১৫ শতাংশ ফ্লাইট বৃহস্পতিবার বাতিল হয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া অফিস বলছে, এর আগে ১৯৭২ সালের ২৮ নভেম্বর সিউলে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার তুষারপাত রেকর্ড করা হয়, যা ছিল ১৯০৭ সালে তুষারপাত রেকর্ড শুরু হওয়ার পর, সবচেয়ে ভারী তুষারপাত। তবে এবার ২০২৪ সালের নভেম্বরের প্রথম তুষারপাত আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ গ্রেপ্তারের ঘটনায় যা বললেন প্রিয়াঙ্কা
আগুন থেকে সৃষ্ট বায়ু দূষণে বছরে ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু