গেলো বছর ছাগলকাণ্ডে আলোচনায় আসার পর থেকেই সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। অবশেষে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
গেলো বছরের কোরবানির ঈদে ঢাকার সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১২ লাখ টাকার একটি ছাগল কিনে আলোচনার জন্ম দেন মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত। এছাড়া কেনেন আরো কয়েক লাখ টাকার গরু।
এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাজস্ব কর্মকর্তার ছেলের কোরবানির খরচ দেখে আঁতকে ওঠে সাধারণ। প্রশ্ন জাগে, জনগণের কাছ থেকে কর আদায় করে, সেই অর্থ বিলাসী জীবনে ঢালা হচ্ছে কিনা।
আর প্রশ্ন ওঠা শুরু হওয়ার পরেই মুশফিকুর রহমান ওরফে ইফাতকে নিজের ছেলে হিসেবে অস্বীকার করে বসেন মতিউর রহমান। এতে ক্ষোভও জানান ছেলে ইফাত। কিন্তু তাতেই ঘটনা থেমে থাকেনি।
রাজস্ব বোর্ডের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার অঢেল অর্থ সম্পদের খবর বেরিয়ে আসতে শুরু করে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, কোম্পানিতে শেয়ার, জমি, বাড়ি, গাড়িসহ নজিরবিহীন সম্পদে তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসে।
এরপরই, ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউর রহমানকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
তাকে সংযুক্ত করা হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে। সেই সঙ্গে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক।

মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি ও ফ্ল্যাটসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। আদালত এসব সম্পদ জব্দ করে হেফাজতে নিতে দুদককে অনুমতি দিয়েছে।
এ পর্যায়ে গত বছরের ৩১ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন মতিউর রহমান। এরপরই শুরু হয় মতিউরের অবস্থান নিয়ে কানাঘুষা।
ছাগলকাণ্ডে আলোচনায় আসার পর থেকেই মতিউর রহমানের হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তার বিভিন্ন বাসভবনে খোঁজ নিয়েও সন্ধান মেলেনি। এমনকি ঈদের ছুটির পর অফিসেও ফেরেননি।
খবর রটে যায়, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পালিয়ে গেছেন মতিউর। তবে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে গ্রেপ্তারের পর জানা গেলো দেশেই ছিলেন তিনি।
ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউর ও তার স্ত্রী গ্ৰেপ্তার