লাতিন সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ মারিও ভার্গাস য়োসা মারা গেছেন

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩০ পিএম

স্প্যানিশ-পেরুভিয়ান ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যে নোবেলজয়ী কথাশিল্পী মারিও ভার্গাস য়োসা মারা গেছেন। পেরু সরকার সোমবার তাকে সম্মান জানিয়ে একদিনের শোক ঘোষণা করে, সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। 

রোববার (১৩ এপ্রিল) ৮৯ বছর বয়সে পেরুর রাজধানী লিমায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ যুগের অবসান হলো।

য়োসার বড় ছেলে আলভারো এক্সে (সাবেক টুইটার)- লেখেন, গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের বাবা মারিও বার্গাস ইয়োসা আজ লিমায় পরিবার পরিবেষ্টিত অবস্থায় শান্তিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

মধ্যবিত্ত পেরুভিয়ান পরিবারে জন্ম নেওয়া ভার্গাস য়োসা ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের লাতিন আমেরিকান সাহিত্য ‘বুম’-এর অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ও হুলিও কোর্তাসারের সঙ্গে একই কাতারে বিবেচিত হন তিনি।

১৯৯৩ সালে তিনি স্পেনে চলে যান ও স্পেনের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। একই সময় তিনি পেরুর স্বৈরশাসক ফুজিমোরি বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন।

সোমবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এক্স-এ লেখেন, মারিও ভার্গাস য়োসাকে বিদায় জানাচ্ছে স্প্যানিশ সাহিত্য। এক বিশ্বজোড়া শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পীর প্রতি একজন পাঠকের কৃতজ্ঞতা রইল। তিনি আমাদের সময়কে বোঝার জন্য যে বিশাল সাহিত্যভাণ্ডার রেখে গেছেন, তা অমূল্য। 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার অসুস্থতা নিয়ে গুঞ্জন ছিলো, তিনি জনসমক্ষে দেখা দিচ্ছিলেন না। গত অক্টোবরে তার ছেলে আলভারো বলেছিলেন, তিনি ৯০ ছুঁইছুঁই করছেন, এমন বয়সে একটু বিশ্রাম নেওয়াই স্বাভাবিক।

পারিবারিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভার্গাস য়োসার মৃত্যুতে তার পরিবার, বন্ধু এবং সারা বিশ্বের পাঠকেরা শোকাহত হবেন। তবে তারা আশাবাদী যে— তার দীর্ঘ, দু:সাহসিক ও সৃজনশীল জীবনের স্মৃতি এবং তাঁর রেখে যাওয়া সাহিত্য আমাদের সান্ত্বনা দেবে।

‘অমর উত্তরাধিকার’ ভার্গাস য়োসার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো সরকারি বা পাবলিক শোকানুষ্ঠান হবে না। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে তাকে বিদায় জানাতে চান।

লেখকের শেষ ইচ্ছানুযায়ী তার দেহ দাহ করা হবে বলেও জানিয়েছেন আলভারো, গনজালো ও মরগানা।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লেখকের বাড়ির আশপাশে অনেকেই জড়ো হন। তাদের মধ্যে একজন, গুস্তাভো রুইজ বলেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। যেহেতু শোকানুষ্ঠান হচ্ছে না, তাই এখানে এসেছি শ্রদ্ধা জানাতে।

পেরুর প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে এক্সে লেখেন, এই মহান পেরুভিয়ান আমাদের জন্য রেখে গেছেন এক বিশাল সাহিত্যিক উত্তরাধিকার, যা আগামী প্রজন্মের জন্য অনন্ত অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

কলোম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবে তাকে বলেছেন 'মাস্টার অব মাস্টারস'।

সহপাঠী ও লেখক আলফ্রেদো ব্রাইস এচেনিকে বার্গাস ইয়োসাকে ‘আধুনিক পেরুর সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ভার্গাস য়োসা বাস্তবতার ঘনিষ্ঠ ও নিরীক্ষাধর্মী চিত্রণ এবং সমাজ বিশ্লেষণের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, বিশেষত রক্ষণশীল অবস্থান, অনেক দক্ষিণ আমেরিকান বুদ্ধিজীবীর সমালোচনার মুখে পড়ে।

ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতির অনুরাগী বার্গাস ইয়োসা প্যারিসে অনেক বছর কাটিয়েছেন। জীবিত থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে তিনি ফ্রান্সের বিখ্যাত চষবরধফব সিরিজে স্থান পাওয়া প্রথম বিদেশি লেখক হন। ২০২১ সালে তিনি ফ্রান্সের একাডেমি অব ইন্টেলেকচুয়ালস-এর সদস্য মনোনীত হন।

১৯৩৬ সালের ২৮ মার্চ পেরুর আরেকিপায় জন্মগ্রহণ করেন মারিও ভার্গাস য়োসা। তার সাহিত্যিক জীবন শুরু হয় সাংবাদিকতা দিয়ে, যা পরবর্তীতে তাকে উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধের জগতে নিয়ে যায়।

তার প্রথম উপন্যাস নায়কের কাল (১৯৬৩) পেরুর সামরিক একাডেমির বাস্তবতা তুলে ধরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরপর সবুজ ঘর, ক্যাথেড্রালে কথোপকথনসহ বহু বিখ্যাত উপন্যাস রচনা করেন তিনি। তার লেখায় লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন মারিও ভার্গাস য়োসা। নোবেল কমিটি তার সাহিত্যকর্মকে 'ক্ষমতার কাঠামো, বিদ্রোহ, পরাজয় ও ব্যক্তির সংগ্রাম'-এর গভীর চিত্রায়ন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তার রচনাগুলো প্রায় ৩০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তিনি ১৯৯৩ সালে স্পেনের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় দীর্ঘ সময় বসবাস করেন।

আরবিএস
হান্টাভাইরাসের কবলে পড়া বিলাসবহুল প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াস স্পেনের ক্যানারি দীপপুঞ্জে ভেড়ার অনুমতি পেয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানে মিত্র দেশগুলোর অসহযোগিতা পেন্টাগনকে চরম ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, পেন্টাগনের শীর্ষ নীতি নির্ধারক...
দক্ষিণ স্পেনে রোববার রাতে একটি উচ্চগতির ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি ট্রেনের সাথে সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ রেল...
গাজা অভিমুখী ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক ত্রাণবহরে ইসরাইলের বাধার নিন্দা জানাতে বৃহস্পতিবার স্পেনের বার্সেলোনার রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র এবং স্থায়ী টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন, জাতিসংঘে এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ...
হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে মাঠের ভেতর যখন ব্রাজিলের সেলেসাওরা ‘সার্ফিং’ উৎসবে মেতেছিল, ঠিক তখনই ডাগআউট থেকে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এলো সবচেয়ে বড় ধামাকা। অবশেষে কাটল শঙ্কা, আগামী বুধবার মায়ামির মাঠে...
লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে আকস্মিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর উদ্যোগে এক নতুন মোড় এসেছে। থমকে যাওয়া ভূ-রাজনীতিকে সচল করে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তির...
প্রথম ম্যাচের ছন্নছাড়া ড্রয়ের পর যে সেলেসাওদের তীব্র সমালোচনায় ধুয়ে দিচ্ছিলেন সমর্থকরা, শুক্রবার রাতে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে তারাই ফিরল স্বমহিমায়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা স্ট্রাইকার মাথেউস কুনহার...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর