আফগানিস্তানের সাবেক সরকার, মার্কিন বাহিনী ও নেটো বাহিনীর হয়ে যারা কাজ করেছেন সে সকল আফগান নাগরিকদের খুঁজছে তালেবানরা। ওই নাগরিকদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তালেবানরা এবং তাদের হত্যাও করা হতে পারে। এমন শঙ্কার কথা উঠে এসছে জাতিসংঘের একটি নথিতে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, 'নরওয়েজিয়ান সেন্টার ফর গ্লোবাল অ্যানালাইসিস' এই নথিটি তৈরি করেছে। এই সংস্থাটি জাতিসংঘকে গোপন তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
নথিতে বলা হচ্ছে, মার্কিন, নেটো ও সাবেক আফগান সরকারের পক্ষে যারা কাজ করেছে তারা নিজে থেকে ধরা না দিলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে অথবা তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে মেরে ফেলা বা গ্রেপ্তার করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

যদিও রাজধানী কাবুল দখলের পর সকল বিরোধী পক্ষকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল তালেবানরা। কিন্তু ওই ঘোষণার ২৪ ঘন্টা পার হতে না হতেই দেশটির প্রথম নারী গভর্নর সালিমা মাজারিকে আটক করার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। যিনি তালেবান রুখতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। সালিমা মাজারিকে আটক ও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তালেবান তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো আসেনি। তবে, ভারতীয় গণমাধ্যম আটকের খবর নিশ্চিত করেছে।
জাতিসংঘের নথিতে আরও বলা হয়েছে, তালেবানদের বিরোধী পক্ষকে সহায়তাকারী আফগানদের তালিকা ধরে তাদেরকে খুঁজছে মোল্লাহ বারাদার বাহিনী। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশিও চালাচ্ছে তারা। এমনকি রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জড়ো হওয়া মানুষদের মধ্যেও বিদেশি সেনা সহায়তাকারী আফগানদের খোঁজা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৬ বিভাগে করোনা ও উপসর্গে ৫০ মৃত্যু
নথি অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন তারা, যারা আগের সরকারের সেনা ও পুলিশে কাজ করেছে। তালেবানরা এ সকল আফগানদের তালিকা তৈরির কাজ করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দুইদিন পর প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে এসে সবাইকে ক্ষমা করার কথা জানায় তালেবান গোষ্ঠী। প্রতিশোধের রাস্তা থেকে সরে আসারও ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। পাশপাশি তালেবান শাসনে নারীরা শরিয়া আইন অনুযায়ী স্বাধীনতা পাবেন এমন ঘোষণাও এসেছে। কিন্তু এরই মধ্যে বেশ কিছু মানুষকে হত্যা ও কয়েকজনকে আটক করেছে তালেবানরা।
একাত্তর/আরবিএস
