ইসরাইলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। এ হামলার ঘটনায় আটজন আহত হয়েছে। তবে পুরো ঘটনার বিস্তারিত এখনো পর্যালোচনা করছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইসরাইলি ‘অ্যারো’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুথিদের এই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। এই হামলার দশগুণ জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল।
রয়টার্স বলছে, ইয়েমেন থেকে হুথি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রোববার। এর আগেও বেশ কয়েক বার বিমানবন্দরে হমাল চালানো চেষ্টা করেছিল হুথিরা। কিন্তু সেসব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে ইসরাইলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এবার আর শেষ রক্ষা করতে পারেনি সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ হুথিদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলার সাতগুণ বেশি জবাব ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যারা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, সাত গুণ বেশি প্রত্যাঘাত করা হবে তাদের। শত্রু যতই দূরে হোক না কেন, সঠিক সময়ে জবাব দেয়া হবে।
ইসরাইল রেজিলিয়েন্স পার্টির নেতা ও সাবেক যুদ্ধ মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গ্যান্টজ বলেন, হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করা উচিত। তিনি বলেন, ইসরাইল রাষ্ট্রের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান, এবং তাদের এর দায় নিতে হবে। তবে, তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে আঘাত হানার পর ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিচ্ছে একের পর এক বিদেশি এয়ারলাইন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসরাইলের ফ্লাইট স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।

এদের মধ্যে রয়েছে: অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস, এয়ার ফ্রান্স, রায়ানএয়ার, আজারবাইজান এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং এয়ার ইউরোপা। এয়ার ইন্ডিয়া, উইজ এয়ার, লুফথানসা, সুইস এবং আইটিএ এয়ারলাইনস আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
হামলার পর বিমানবন্দরের সব প্রবেশপথ সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয় এবং বিমানবন্দরগামী ট্রেন চলাচলও স্থগিত করা হয়। আরও হামলার আশঙ্কায় কিছু ফ্লাইটকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। মধ্য ইসরাইলজুড়ে বেড়ে ওঠে সাইরেন, প্রাণভয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয় অনেক ইসরাইলি।
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে হামলা চালিয়ে আসা ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এই হামলার দায় নিয়েছে। তারা বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকে ‘আর নিরাপদ নয়’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই হামলা ইসরাইলের সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার সামর্থ্য প্রমাণ করে বলে দাবি করছে হুথি।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দরের একটি সংযোগ সড়কে আঘাত হানে এবং তার ধ্বংসাবশেষ আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জেরে ইসরাইলের ফ্লাইট সূচিতে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা এর প্রভাব চলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
দেড় বছরে গাজায় দুই শতাধিক সাংবাদিক নিহত